বঙ্গবন্ধুর স্লোগান দিতেই মারধর! বাংলাদেশে মুক্তিযোদ্ধাকে ঘিরে তীব্র বিতর্ক
.jpg.webp?ssl=1)
বাংলাদেশে থমকাচ্ছে না মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর লাঞ্ছনা ও নিপীড়ন! নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায় ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেওয়ায় এক প্রবীণ মুক্তিযোদ্ধাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল, ধাক্কাধাক্কি এবং শেষ পর্যন্ত মাইকে ঘোষণা দিয়ে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। আক্রান্ত ওই বীর মুক্তিযোদ্ধার নাম মিজানুর রহমান। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও বাংলাদেশে মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর এমন ধারাবাহিক নির্যাতন ও ঐতিহাসিক স্লোগান দেওয়ার কারণে গ্রেপ্তারের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বলি বীর মুক্তিযোদ্ধা
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিয়ামতপুর উপজেলায় বাজেট পেশ পরবর্তী একটি আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান। বক্তব্য শেষে তিনি স্বভাবসুলভভাবেই ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেন। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই স্লোগানে বিএনপির আপত্তি থাকার বিষয়টি মাথায় রেখে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ‘ভুল হয়েছে’ বা ‘মুখ ফসকে বলে ফেলেছি’ উল্লেখ করে ক্ষমাও চান। কিন্তু তাতেও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। উপস্থিত বিএনপির যুব সংগঠন যুবদলের স্থানীয় নেতা আলাউদ্দিনের নেতৃত্বে একদল কর্মী ওই প্রবীণ মুক্তিযোদ্ধার ওপর চড়াও হন এবং তাকে চরমভাবে লাঞ্ছিত করেন। যদিও বরাবরের মতোই বিএনপি নেতৃত্ব দাবি করেছে যে, অভিযুক্ত আলাউদ্দিন তাদের দলের কেউ নন।
দেশজুড়ে বাড়ছে গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের মাত্রা
এই ঘটনাটি কোনো বিচ্ছিন্ন চিত্র নয়। বাংলাদেশে বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া এবং রাজনৈতিক ভিন্নমতের কারণে মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর নানা উপায়ে নিপীড়ন চালানো হচ্ছে। এমনকি এক মুক্তিযোদ্ধাকে গলায় জুতার মালা পরিয়ে ঘোরানোর মতো চরম অবমাননাকর ঘটনাও ঘটেছে। সম্প্রতি চট্টগ্রামে এক জানাজায় অংশ নিয়ে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার অপরাধে ১৬ জন আওয়ামী লীগ কর্মীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ আদালতে পাঠালে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পরও এই পরিস্থিতির কোনো গুণগত পরিবর্তন হয়নি।
সুশীল সমাজের উদ্বেগ ও সম্ভাব্য প্রভাব
নির্বাচনের আগে বিএনপি নিজেকে মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সৈনিক দাবি করলেও, বর্তমানে তাদের নেতাকর্মীদের এমন আচরণ এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে জয় বাংলা স্লোগান নিষিদ্ধকরণের মতো তৎপরতা দেশের রাজনৈতিক ও সুশীল সমাজকে গভীরভাবে উদ্বেলিত করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্র গঠনে অনন্য অবদান রাখা মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর এই ধরনের ধারাবাহিক শারীরিক ও মানসিক হেনস্থা এবং ঐতিহাসিক স্লোগান উচ্চারণের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভেদকে আরও তীব্র করে তুলছে। এটি একদিকে যেমন জাতীয় ঐক্যের পথে বড় অন্তরায়, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মহলেও দেশের মানবাধিকার ও বাকস্বাধীনতার চিত্রকে ক্ষুণ্ন করছে।