পাকিস্তানের সাথে আলোচনার প্রস্তাব আরএসএস নেতার, কূটনৈতিক মহলে তোলপাড়!
.jpg.webp?w=1200&resize=1200,800&ssl=1)
প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনার দরজা পুরোপুরি বন্ধ না করার পক্ষে সওয়াল করেছেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (আরএসএস) সাধারণ সম্পাদক দত্তাত্রেয় হোসাবলে। সম্প্রতি সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে সঙ্ঘের এই শীর্ষ নেতা স্পষ্ট জানান, কোনো দেশেরই অন্য দেশের জন্য আলোচনার পথ সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা উচিত নয়। আরএসএসের মধ্যে তুলনামূলকভাবে উদারপন্থী হিসেবে পরিচিত হোসাবলের এই মন্তব্য ঘিরেই এখন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আব্দুল্লাহ এবং পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতি পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন, যার কারণে গেরুয়া শিবিরের তীব্র কটাক্ষের মুখেও পড়তে হয়েছিল তাঁদের। এবার খোদ আরএসএস নেতার মুখে একই কথা শুনে ফারুক আব্দুল্লাহ ও মেহবুবা মুফতি এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছেন। রাজনৈতিক মহলের বাইরে প্রাক্তন সেনাপ্রধান এমএম নারাভনেও হোসাবলের বক্তব্যকে পুরোপুরি সমর্থন করে জানিয়েছেন, দুটি দেশের মধ্যে সম্পর্ক না থাকলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন সাধারণ নাগরিকেরা এবং তাঁদের রুটি-রুজিতে টান পড়ে।
সরকারি অবস্থানে জটিলতা ও পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া
হোসাবলের এই মন্তব্য ভারতের বর্তমান বিদেশনীতির সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী হওয়ায় তৈরি হয়েছে নতুন সমীকরণ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর একাধিকবার স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, সন্ত্রাসবাদ ও আলোচনা একসঙ্গে চলতে পারে না। স্বাভাবিকভাবেই বিজেপি বা কেন্দ্রীয় সরকারের কোনো প্রতিনিধি সঙ্ঘ নেতার এই মন্তব্যের পক্ষে মুখ খোলেননি। তবে ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক এই বিষয়ে নীরব থাকলেও, পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রক আরএসএস নেতার এই ইতিবাচক মনোভাবকে দ্রুত স্বাগত জানিয়েছে।
মার্কিন চাপ ও সার্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা
২০১৮ সাল থেকে পাকিস্তানের মাটিতে ভারতের ওপর একের পর এক জঙ্গি হামলার পর থেকে দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক অত্যন্ত তলানিতে ঠেকেছে। ভারতের বয়কটের কারণে আঞ্চলিক সহযোগিতার মঞ্চ ‘সার্ক’ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে আরএসএস নেতার সুর বদলকে কেন্দ্র করে মোদি সরকারকে নিশানা করেছে কংগ্রেস। কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ প্রশ্ন তুলেছেন যে, গত মাসে দত্তাত্রেয় হোসাবলের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরের পরই কেন এই মন্তব্য এল? কংগ্রেসের দাবি, পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনা শুরু করার জন্য ওয়াশিংটনের কোনো চাপ বা প্রভাব এর পিছনে কাজ করে থাকতে পারে।
পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, হোসাবলে তাঁর সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে এড়িয়ে সে দেশের নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের কথা বলেছেন। যদিও পাকিস্তানের শাসনব্যবস্থা সম্পূর্ণ সেনা-নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় এই কৌশলের কার্যকারিতা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তবে ভারতের এই প্রস্তাব যদি আনুষ্ঠানিক রূপ পায়, তবে আন্তর্জাতিক মহলের পাশাপাশি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সুশীল সমাজ ও সাধারণ মানুষের থেকেও সে দেশের সেনাশাহীর ওপর সন্ত্রাসবাদ বন্ধের চাপ বাড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।