টাকার লোভেই নৃশংস খুন! মালদহ হত্যাকাণ্ডে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পুলিশের জালে ২

মালদার হবিবপুর থানার বুলবুলচণ্ডী এলাকায় ২০ বছরের এক যুবককে নৃশংসভাবে খুনের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তবে ঘটনার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই হত্যাকাণ্ডের রহস্যভেদ করেছে পুলিশ। এই চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, যুবকের কাছে থাকা দপ্তরের কালেকশনের মোটা অঙ্কের টাকা ছিনতাই করার উদ্দেশ্যেই এই খুন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে বুলবুলচণ্ডী রেল স্টেশন সংলগ্ন রেললাইনের ধারের ঝোপঝাড় থেকে গোপাল সরকার নামের ওই যুবকের রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধার হয়। মৃত যুবকের গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনার খবর পেয়েই হবিবপুর থানার আইসি কৌশিক বিশ্বাসের নেতৃত্বে পুলিশ বাহিনী দ্রুত তদন্তে নামে এবং বৃহস্পতিবার বিকেলেই দুজনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। ধৃতদের নাম রণি মজুমদার ও শত্রুঘ্ন মণ্ডল। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র, মৃতের মোবাইল ফোন এবং ছিনতাই হওয়া কিছু টাকা উদ্ধার করেছে।
টাকা কালেকশন করে ফেরার পথেই হামলা
তদন্তে জানা গেছে, মৃত গোপাল সরকার আইহো বক্সীনগর লালচাঁদপুর এলাকার বাসিন্দা এবং তিনি একটি ডিস্ট্রিবিউটর সংস্থায় কর্মরত ছিলেন। বুধবার সকালে তিনি দপ্তরের টাকা কালেকশন করতে পাকুয়াহাটে যান। সারাদিন টাকা আদায়ের পর রাতে তাঁর বাড়ি ফেরার কথা থাকলেও তিনি আর ফেরেননি। অভিযোগ, রণি ও শত্রুঘ্ন নামের ওই দুই দুষ্কৃতী গোপালের কাছে প্রচুর টাকা থাকার খবর পেয়েই তাঁর ওপর হামলা চালায়। তারা টাকা ছিনতাই করে গোপালকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে খুন করে এবং প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে দেহটি রেললাইনের ধারের ঝোপে ফেলে পালিয়ে যায়।
অপরাধের কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ ছিল পূর্বপরিকল্পিতভাবে আর্থিক লুটপাট। ডিস্ট্রিবিউটর সংস্থার কর্মীদের গতিবিধি ও কালেকশনের টাকার ওপর দুষ্কৃতীরা নজর রাখছিল বলেই পুলিশের অনুমান। এই ঘটনার ফলে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন সংস্থার কালেকশন এজেন্টদের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। এর পাশাপাশি, ফাঁকা এলাকায় বা রেললাইনের ধারে নিরাপত্তা ও নজরদারি বাড়ানোর দাবি উঠছে। শুক্রবারই ধৃত দুজনকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানিয়ে মালদা জেলা আদালতে পেশ করেছে পুলিশ।