শেষ বেতনের ৫০ শতাংশ নিশ্চিত পেনশনের দাবি, অষ্টম বেতন কমিশন ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা!

অষ্টম বেতন কমিশন গঠন এবং এর সম্ভাব্য সুপারিশ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। এবার বেতন বৃদ্ধির চেয়েও বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে অবসর-পরবর্তী সামাজিক নিরাপত্তা ও পেনশন ব্যবস্থা। বিশেষ করে ন্যাশনাল পেনশন সিস্টেম (NPS) নিয়ে অসন্তোষ এবং নিশ্চিত বা গ্যারান্টিযুক্ত পেনশনের দাবিকে কেন্দ্র করে কর্মচারীদের প্রত্যাশা এখন তুঙ্গে। ২০০৪ সাল থেকে কার্যকর হওয়া এনপিএস ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ বাজার-নির্ভর হওয়ায়, দীর্ঘ দিন ধরেই কর্মচারীরা একটি স্থায়ী আর্থিক কাঠামোর দাবি জানিয়ে আসছিলেন। এবার অষ্টম বেতন কমিশনের দরবারে সেই দাবি আরও জোরালো রূপ নিয়েছে।
কর্মচারী সংগঠনের প্রস্তাব ও মধ্যপন্থার খোঁজে কেন্দ্র
অল ইন্ডিয়া এনপিএস এমপ্লয়িজ ফেডারেশন (AINPSEF) অষ্টম বেতন কমিশনের কাছে একটি সুনির্দিষ্ট স্মারকলিপি জমা দিয়েছে। তাদের মূল দাবি, অবসরের পর কর্মচারীদের যেন শেষ বেতনের ৫০ শতাংশ নিশ্চিত পেনশন হিসেবে দেওয়া হয় এবং এর সঙ্গে মহার্ঘ ভাতা বা DA যুক্ত করা হয়। পাশাপাশি, কোনো কর্মীর মৃত্যু হলে তাঁর পরিবার যাতে ৬০ শতাংশ ফ্যামিলি পেনশন পায়, সেই দাবিও তোলা হয়েছে। ২০৩৩ সাল থেকে বিপুল সংখ্যক এনপিএস-ভুক্ত কর্মী অবসরে যাবেন, যার ফলে এখনই একটি চূড়ান্ত ও স্থায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সরকারের ওপর চাপ বাড়ছে।
সূত্রের খবর, এই আন্দোলনের মুখে কেন্দ্র সরকারের অন্দরেও পেনশন কাঠামো নিয়ে নতুন করে চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছে। অর্থনীতিবিদদের একাংশ মনে করছেন, পুরনো পেনশন স্কিম (OPS) সম্পূর্ণ ফিরিয়ে আনা সরকারের জন্য বড় আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে। কারণ ওপিএস-এর ক্ষেত্রে পেনশনের পুরো আর্থিক দায়ভার সরকারের ওপরেই বর্তায়। এই পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা অনুমান করছেন, সরকার হয়তো এমন একটি মধ্যপন্থা বা হাইব্রিড মডেল বেছে নিতে পারে, যেখানে এনপিএস বজায় রেখেই ন্যূনতম একটি নির্দিষ্ট পেনশনের নিশ্চয়তা দেওয়া হবে। এতে বাজারের ওঠানামা থাকলেও কর্মচারীদের একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের আয় নিশ্চিত হবে।
ভবিষ্যতের প্রভাব ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
অষ্টম বেতন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের ওপর দেশের লক্ষ লক্ষ কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী ও তাঁদের পরিবারের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে। যদি শেষ বেতনের ৫০ শতাংশ নিশ্চিত পেনশনের দাবি বাস্তবায়িত হয়, তবে তা চাকরিজীবীদের দীর্ঘদিনের মানসিক ও আর্থিক অনিশ্চয়তা দূর করবে। অন্যদিকে, এটি সরকারের রাজকোষের ওপর কতটা চাপ সৃষ্টি করবে এবং বাজেটে কীভাবে ভারসাম্য বজায় রাখা হবে, সেটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। যদিও সরকার বা বেতন কমিশনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বা চূড়ান্ত ঘোষণা করা হয়নি, তবে পেনশন কাঠামোর এই সম্ভাব্য পরিবর্তন আগামী দিনে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তায় এক বড়সড় প্রভাব ফেলতে চলেছে।