প্রতিরক্ষা থেকে মহাকাশ, পশ্চিমি চাপ উপেক্ষা করে আরও কাছাকাছি ভারত ও রাশিয়া!

প্রতিরক্ষা থেকে মহাকাশ, পশ্চিমি চাপ উপেক্ষা করে আরও কাছাকাছি ভারত ও রাশিয়া!

দিল্লিতে ব্রিকস রাষ্ট্রগোষ্ঠীর বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠকের পর এক তাৎপর্যপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতিতে ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার বার্তা দিল রাশিয়া। রুশ বিদেশমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর স্পষ্ট করেছেন যে, প্রতিরক্ষা, মহাকাশ গবেষণা এবং সার সরবরাহের মতো কৌশলগত ক্ষেত্রগুলিতে দুই দেশ একযোগে কাজ করবে। গত ডিসেম্বরে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং প্রধানমন্ত্রী মোদীর মধ্যে হওয়া বৈঠকের সিদ্ধান্তের রেশ ধরেই এই আলোচনা আরও গতি পেয়েছে।

প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি ক্ষেত্রে নতুন সমীকরণ

এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের অন্যতম প্রধান কারণ হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা পশ্চিমা দেশগুলির অর্থনৈতিক চাপ ও শুল্ক নীতির মোকাবিলা করা। দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক যাতে বাইরের কোনো ‘নেতিবাচক বা বৈরী চাপের’ মুখে না পড়ে, তার জন্য একটি শক্তিশালী সহযোগিতার কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। এর ফলে ভবিষ্যতে দুই দেশ যৌথভাবে আধুনিক যুদ্ধাস্ত্র তৈরি করবে এবং মহাকাশ গবেষণায় সহযোগিতা বাড়াবে। পাশাপাশি ভারতের কৃষিক্ষেত্রকে সুরক্ষিত রাখতে সার সরবরাহ স্থিতিশীল রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে মস্কো। এছাড়া ভারতের ক্রমবর্ধমান জ্বালানির চাহিদা মেটাতে রাশিয়ার তেল সরবরাহের পরিমাণ আরও বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা ভারতের জ্বালানি সুরক্ষাকে নিশ্চিত করবে।

পশ্চিমি আধিপত্যের বিরোধিতা ও মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভারত

আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে এই বৈঠকের প্রভাব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী হতে চলেছে। আলোচনার একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার বর্তমান অস্থিরতা। রুশ বিদেশমন্ত্রী ইরান, সিরিয়া, ইয়েমেন এবং প্যালেস্তাইনের উত্তেজনার জন্য সরাসরি পশ্চিমি দেশগুলির অভ্যন্তরীণ হস্তক্ষেপকে দায়ী করেছেন। এই পরিস্থিতিতে রাশিয়ার পক্ষ থেকে বিশ্বমঞ্চে ভারতের ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক গুরুত্বকে বিশেষভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। লাভরভ মনে করেন, ভারতের বিশাল কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা ও আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাত মেটাতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সবচেয়ে আদর্শ হতে পারে।

এদিকে ভারতের পক্ষ থেকেও কূটনীতি এবং আলোচনার মাধ্যমেই বিশ্বশান্তি বজায় রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ইউক্রেন এবং পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংকট নিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী স্পষ্ট জানিয়েছেন যে ভারত সর্বদা সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে। বিশ্বজুড়ে বদলাতে থাকা ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে ভারত ও রাশিয়ার এই বিশেষ কৌশলগত অংশীদারিত্ব আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এক নতুন ভারসাম্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *