ডেটা ফাঁসের দিন শেষ, ১০০ শতাংশ দেশীয় সুরক্ষায় এলো সরকারি ‘সন্দেশ’

ডেটা ফাঁসের দিন শেষ, ১০০ শতাংশ দেশীয় সুরক্ষায় এলো সরকারি ‘সন্দেশ’

সাইবার জালিয়াতি এবং ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের মাঝে দেশের নাগরিকদের জন্য স্বস্তির খবর নিয়ে এলো ভারত সরকারের তৈরি একটি সম্পূর্ণ দেশীয় চ্যাট অ্যাপ। ডিজিটাল ইন্ডিয়া প্রোগ্রামের অধীনে তৈরি এই অ্যাপটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘সন্দেশ’ (Sandes)। এটি জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপের মতোই কাজ করে, তবে সুরক্ষার দিক থেকে এটি বহুল ব্যবহৃত বেসরকারি অ্যাপগুলোর চেয়ে কয়েক ধাপ এগিয়ে। মূলত সরকারি কাজকর্ম এবং সাধারণ মানুষের মধ্যকার যোগাযোগকে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত করতেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে গোয়ার পোরভোরিমের এনআইসি (গোয়া স্টেট সেন্টার)-এর শক্তিশালী ডিজিটাল নেটওয়ার্কের সাহায্যে সেখানে এই অ্যাপের ব্যবহার দ্রুত বাড়ানো হচ্ছে।

নিরাপত্তার নতুন দিগন্ত এবং ডেটা সুরক্ষার কারণ

সাধারণত বিভিন্ন বেসরকারি চ্যাটিং অ্যাপের ডেটা বিদেশের সার্ভারে জমা হওয়ার কারণে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ে। ‘সন্দেশ অ্যাপ’ এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করেছে। এই অ্যাপের সমস্ত ডেটা দেশের নিজস্ব সরকারি ডেটা সেন্টার এবং সুরক্ষিত ক্লাউড পরিকাঠামোতে হোস্ট করা হয়। ফলে প্রতিটি চ্যাট এবং শেয়ার করা ফাইল দেশের সীমানার মধ্যেই সংরক্ষিত থাকে। এছাড়া অ্যাপটি পুরোপুরি ‘এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপ্টেড’। এর ফলে যিনি মেসেজ পাঠাচ্ছেন এবং যিনি গ্রহণ করছেন, তারা ছাড়া তৃতীয় কোনো পক্ষ বা সরকারের পক্ষেও এই মেসেজ পড়া সম্ভব নয়। শুধুমাত্র জরুরি ডেটা সুরক্ষিত উপায়ে স্টোর করার কারণে এখানে তথ্য চুরির বা অপব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই।

ব্যবহারকারীদের জন্য আকর্ষণীয় ফিচার ও সম্ভাব্য প্রভাব

সুরক্ষার পাশাপাশি ব্যবহারকারীদের আধুনিক সব সুবিধাও দিচ্ছে এই দেশীয় অ্যাপ। এতে সাধারণ মেসেজ পাঠানোর পাশাপাশি হাই-কোয়ালিটি অডিও এবং ভিডিও কল করার সুবিধা রয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক বা অফিশিয়াল কথাবার্তাকে সহজ করতে এতে যুক্ত করা হয়েছে বিশেষ ধরনের ইমোজি ও ট্যাগ। মোবাইল ছাড়াও ল্যাপটপ বা কম্পিউটারে এটি হোয়াটসঅ্যাপ ওয়েব সংস্করণের মতোই সহজে চালানো যায়। সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে চলেছে ব্যাংকিং ও সরকারি পরিষেবায়। এখন থেকে ব্যাংকের ওটিপি (OTP) বা জরুরি সরকারি সতর্কবার্তা পাঠানোর জন্য আর ব্যয়বহুল ও অসুরক্ষিত এসএমএস-এর ওপর নির্ভর করতে হবে না; সন্দেশ অ্যাপই হবে তার নিরাপদ মাধ্যম। এই অ্যাপের ব্যাপক প্রসার দেশের ডিজিটাল স্বনির্ভরতা বাড়াতে এবং বিদেশি অ্যাপের ওপর নির্ভরতা কমাতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *