“২০২১-এ টিম গড়লে মানুষকে ঘরছাড়া হতে হতো না!” ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং দল ও তৃণমূলকে তীব্র নিশানা দিলীপ ঘোষের

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার প্রসঙ্গ টেনে তৃণমূল কংগ্রেসের ‘ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম’ বা তথ্য অনুসন্ধানকারী দলকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। দলীয় প্রতিনিধিদলের বিভিন্ন জেলা সফরের সমালোচনা করে তিনি দাবি করেন, এই ধরনের উদ্যোগ যদি আরও আগে নেওয়া হতো, তবে রাজ্যের বহু মানুষকে ঘরছাড়া হতে হতো না এবং প্রাণহানির মতো ঘটনাও এড়ানো যেত। বিধানসভায় বিরোধীদের শত শত লোক ঘরছাড়া হওয়ার দাবির প্রেক্ষিতে মন্ত্রী জানান, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যে ঘরছাড়াদের তালিকা চেয়েছেন এবং তাঁদের সসম্মানে পুনর্বাসনের আশ্বাস দিয়েছেন। তবে সেই সময়কার সহিংসতায় জড়িত কোনো অপরাধীই জেলের বাইরে থাকবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে।
হাসপাতালের দালালরাজ রুখতে নয়া দাওয়াই
রাজ্যের চিকিৎসা পরিষেবা ক্ষেত্রকে দুর্নীতিমুক্ত করতে এবং হাসপাতালগুলো থেকে দালালরাজ পুরোপুরি উৎখাত করতে কড়া পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন পঞ্চায়েত মন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, মুখ্যমন্ত্রী হাসপাতালগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি সংস্কারের জন্য একটি বিশেষ দাওয়াই দিয়েছেন। এর আওতায় হাসপাতালের কর্মী, রোগী এবং রোগীর পরিবারকে আলাদা আলাদা রঙের ‘হ্যান্ড ব্যান্ড’ বা হাতের ব্যান্ড দেওয়া হবে। এর ফলে হাসপাতালে বহিরাগত ও অপ্রাসঙ্গিক ব্যক্তিদের সহজে চিহ্নিত করা সম্ভব হবে এবং সেখানে চলমান অনিয়ম বা ‘ঘুণ’ ধরা ব্যবস্থাটিকে ওষুধ দিয়ে সারিয়ে তোলা যাবে।
আরজি কর কাণ্ড ও বিচার প্রক্রিয়ার আশ্বাস
আরজি কর মেডিকেল কলেজের ঘটনাটিকে অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও দুর্ভাগ্যজনক আখ্যা দিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, এই ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। এর প্রতিবাদে লক্ষ লক্ষ সাধারণ মানুষ মোমবাতি হাতে রাস্তায় নেমে সত্যের অন্বেষণ ও বিচার চেয়েছিলেন। সেই সত্য উদঘাটনের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে এবং অপরাধীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। এই ঘটনার পেছনে যুক্ত সব ‘অসুরদের’ বধ করার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি দাবি করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিরোধীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে এবং নিজেদের দল কীভাবে সামলাবে তা বুঝতে পারছে না।