“মমতার অভিযোগ ভিত্তিহীন, উল্টে ৩ বিজেপি কর্মী খুন!” ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে ঝাঁঝালো আক্রমণে শমীক
/indian-express-bangla/media/post_attachments/wp-content/uploads/2024/06/Samik-Mamata.jpg?w=1200&resize=1200,675&ssl=1)
পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন-পরবর্তী হিংসা নিয়ে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক টানাপোড়েন। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তোলা নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার সমস্ত অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর উল্টো দাবি, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকে রাজ্যে তৃণমূল-সমর্থিত দুষ্কৃতীদের হাতেই তিনজন বিজেপি কর্মী খুন হয়েছেন। বাকি যে সমস্ত মৃত্যুর ঘটনা সামনে আসছে, তা আদতে শাসক দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলেরই ফল।
শান্তি প্রতিষ্ঠা বনাম অভ্যন্তরীণ কোন্দল
বিজেপির রাজ্য সভাপতির দাবি, রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠন করার পর থেকে নির্বাচন-পরবর্তী বড়সড় সহিংসতা বা অশান্তি প্রায় হয়নি বললেই চলে, যা একপ্রকার নজিরবিহীন। তিনি স্পষ্ট জানান যে, বাংলাকে বছরের পর বছর ধরে চলতে থাকা রাজনৈতিক সহিংসতার কলঙ্কিত সংস্কৃতি থেকে মুক্ত করার সংকল্প নেওয়া হয়েছে। দল বা পদ নির্বিশেষে যারা রাজ্যে অশান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি যোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দুজনেই পশ্চিমবঙ্গের সার্বিক পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক ও কড়া নজর রাখছেন।
আদালতের স্লোগান বিতর্ক
সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্ট চত্বরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে ‘চোর’ স্লোগান দেওয়ার অনভিপ্রেত ঘটনাটি নিয়েও মুখ খুলেছেন শমীক ভট্টাচার্য। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, আদালতে ঘটে যাওয়া এই ধরণের আচরণ মোটেও বিজেপির সংস্কৃতির অংশ নয় এবং দল কখনোই একে সমর্থন করে না। তবে এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির জন্য তিনি পরোক্ষভাবে তৃণমূলের অতীত কর্মকাণ্ড ও উসকানিমূলক রাজনীতিকেই দায়ী করেছেন। তাঁর মতে, একটি সুস্থ ও গণতান্ত্রিক সমাজের জন্য এই ধরণের ঘটনা কাম্য নয়। এখন রাজ্যে রাজনৈতিক কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি বন্ধ করে পশ্চিমবঙ্গের প্রকৃত উন্নয়ন, শিল্পায়ন এবং যুবসমাজের কর্মসংস্থানের দিকে সবার মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।
এক ঝলকে
- মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তোলা নির্বাচন-পরবর্তী হিংসার অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিলেন শমীক ভট্টাচার্য।
- বিজেপির দাবি, ফল ঘোষণার পর তৃণমূল-সমর্থিত দুষ্কৃতীদের হাতে তিনজন বিজেপি কর্মী খুন হয়েছেন এবং বাকি মৃত্যুর ঘটনাগুলো তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ফল।
- রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা নতুন সরকারের প্রধান দায়িত্ব এবং পরিস্থিতির ওপর প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কড়া নজর রাখছেন।
- হাইকোর্ট চত্বরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে ‘চোর’ স্লোগান দেওয়ার ঘটনাকে বিজেপির সংস্কৃতি নয় বলে দাবি করলেও, এর জন্য তৃণমূলের অতীত রাজনীতিকেই দায়ী করেছেন শমীক।