‘এক ইঞ্চি জমিও ছোঁয়া যাবে না!’ খনি লবিকে রুখতে আরাবল্লিতে সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক নিষেধাজ্ঞা

‘এক ইঞ্চি জমিও ছোঁয়া যাবে না!’ খনি লবিকে রুখতে আরাবল্লিতে সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক নিষেধাজ্ঞা

আরাবল্লি পাহাড়শ্রেণির পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এক ঐতিহাসিক ও কঠোর পদক্ষেপ করেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। আদালত-নিযুক্ত বিশেষজ্ঞ কমিটির রিপোর্ট পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ না করা পর্যন্ত আরাবল্লির এক ইঞ্চি জমিতেও কোনও ধরনের খননকার্য চালানো যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট করেছে যে, পরিবেশগত ভাবে সংবেদনশীল এই পাহাড়শ্রেণির একটি নতুন ও গ্রহণযোগ্য সংজ্ঞা নির্ধারিত না হওয়া পর্যন্ত সেখানে সব ধরনের খননকাজ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। মূলত শক্তিশালী খনি লবির অনৈতিক প্রভাব রুখতে এবং এই অঞ্চলের প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখতেই আদালত এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

সংজ্ঞার বিতর্ক ও পরিবেশগত বিপর্যয়

এই আইনি লড়াইয়ের সূত্রপাত ২০২৫ সালের গোড়ার দিকে, যখন কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রক সমুদ্রপৃষ্ঠের পরিবর্তে আশপাশের সমতল এলাকার চেয়ে ১০০ মিটার বা তার বেশি উচ্চতার ভূখণ্ডকে ‘আরাবল্লি পাহাড়’ বলে গণ্য করার প্রস্তাব দেয়। যদিও সুপ্রিম কোর্টের অনুমোদিত বিশেষজ্ঞ কমিটি এই ফর্মুলার তীব্র বিরোধিতা করেছিল, তা সত্ত্বেও তৎকালীন প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ কেন্দ্রের এই সংজ্ঞায় সিলমোহর দেয়। এর ফলে রাজস্থান, গুজরাত, হরিয়ানা এবং দিল্লি জুড়ে বিস্তৃত এই প্রাচীন পর্বতমালাটির প্রায় ৯০ শতাংশ ভূখণ্ডই পরিবেশ সংরক্ষণ বিধির বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, কেন্দ্রের শর্ত মানলে ১২ হাজারের বেশি পাহাড়ের মধ্যে মাত্র হাজারখানেক পাহাড় রক্ষা পেত, যা খনি লবিকে নির্বিবাদে বাণিজ্যিক খনন ও বনাঞ্চল ধ্বংসের অবাধ সুযোগ করে দিত।

আন্দোলন ও আদালতের স্বতঃপ্রণোদিত হস্তক্ষেপ

বনাঞ্চল ও পাহাড় সুরক্ষার এই শিথিলতায় রাজস্থান ও হরিয়ানার বিস্তীর্ণ অংশে তীব্র জনঅসন্তোষ ও পরিবেশবাদী আন্দোলন গড়ে ওঠে। একটি চাঞ্চল্যকর রিপোর্টে প্রকাশ পায় যে, গত সাত বছরে কেবলমাত্র রাজস্থানেই ৭১ হাজারেরও বেশি বেআইনি খননের ঘটনা ঘটেছে, যার সিংহভাগই আরাবল্লি লাগোয়া জেলাগুলিতে। এই গুরুতর পরিস্থিতি বিবেচনা করে সুপ্রিম কোর্ট গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ করে এবং পূর্ববর্তী রায় কার্যকরের ওপর স্থগিতাদেশ দেয়। নতুন পরিবেশবিদ ও বিজ্ঞানীদের নিয়ে গঠিত বিশেষ পর্যবেক্ষণ কমিটির রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই এখন নির্ধারিত হবে আরাবল্লির ভবিষ্যৎ।

এক ঝলকে

  • বিশেষজ্ঞ কমিটির চূড়ান্ত রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত আরাবল্লি পাহাড়ের এক ইঞ্চি জমিতেও খননকাজ করা যাবে না।
  • কেন্দ্রের প্রস্তাবিত সংজ্ঞার কারণে আরাবল্লির প্রায় ৯০ শতাংশ এলাকা পরিবেশ সংরক্ষণ বিধির বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকিতে ছিল।
  • গত সাত বছরে শুধু রাজস্থানেই ৭১ হাজারেরও বেশি বেআইনি খননের ঘটনা ঘটেছে।
  • শক্তিশালী খনি লবির থাবা থেকে এই প্রাচীন পর্বতমালাকে রক্ষা করতে সুপ্রিম কোর্ট কঠোর নজরদারির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *