“১০ বছর ভোট দিতে পারেননি মানুষ, হিসাব হবে!” ফলতায় দাঁড়িয়ে ‘ভাইপো’কে তীব্র হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার গঠনের পর ফলতা বিধানসভার পুনর্নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চড়ছে রাজনীতির পারদ। শনিবার ফলতার মাটি থেকে দলীয় প্রার্থী দেবাংশু পণ্ডার সমর্থনে জোরদার প্রচার চালালেন রাজ্যের নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিনের জনসভা থেকে একদিকে যেমন এলাকার সার্বিক উন্নয়নের জন্য ‘স্পেশ্যাল ডেভেলপমেন্ট প্যাকেজ’-এর ঘোষণা করা হয়েছে, তেমনই প্রধান বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস ও ডায়মন্ডহারবারের সাংসদকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন তিনি।
উন্নয়নের সংকল্প ও ভোটদানের অধিকার পুনরুদ্ধার
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর ভাষণে দাবি করেন, বিগত ১০ বছর ধরে ফলতার সাধারণ মানুষ নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করে ভোট দিতে পারেননি। এই দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে এবার ফলতার জন্য বিশেষ উন্নয়ন প্যাকেজ আনা হবে, যা বিজেপির সংকল্প পত্রেও উল্লেখ রয়েছে। আগামী ২১ মে বিজেপি প্রার্থীকে বিপুল ব্যবধানে জয়ী করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এলাকার মোট ২ লক্ষ ২৫ হাজার ভোটারের মধ্যে অন্তত এক লক্ষ ভোটের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করতে হবে। আগামী ১৯ মে তিনি নিজেই সারাদিন ফলতার মানুষের মাঝে থেকে জনসংযোগ করবেন বলে জানান।
তীব্র রাজনৈতিক আক্রমণ ও প্রশাসনিক হুঁশিয়ারি
নির্বাচনী প্রচারের মঞ্চ থেকে ডায়মন্ডহারবারের সাংসদ তথা ‘ভাইপো’ এবং স্থানীয় প্রশাসনের একাংশকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, বিগত দিনে বিরোধী দলের নেতাদের ইশারায় সাধারণ মানুষের ওপর ব্যাপক অত্যাচার চালানো হয়েছে। এই হিংসা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি জানান, কলকাতায় থাকা বিরোধীদের বেনামি সম্পত্তির খোঁজ নেওয়া হচ্ছে এবং পুলিশকে সমস্ত অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলতা ও ডায়মন্ডহারবার এলাকাকে সম্পূর্ণ গুন্ডামুক্ত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।
এক ঝলকে
- পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী ফলতার পুনর্নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পণ্ডার সমর্থনে প্রচার করেন।
- বিগত ১০ বছর ফলতার মানুষ ভোট দিতে পারেননি বলে দাবি করে এলাকার জন্য বিশেষ উন্নয়ন প্যাকেজের ঘোষণা দেওয়া হয়।
- ২১ মে-র নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থীকে অন্তত ১ লক্ষ ভোটের ব্যবধানে জয়ী করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
- ভোট পরবর্তী হিংসা ও দুর্নীতির তদন্তে ডায়মন্ডহারবার পুলিশকে কল রেকর্ড ও চ্যাট খতিয়ে দেখার নির্দেশ এবং কড়া ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।