‘ককরোচ’ মন্তব্যে তোলপাড়! অবশেষে মুখ খুলে আসল সত্যি জানালেন প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত

‘ককরোচ’ মন্তব্যে তোলপাড়! অবশেষে মুখ খুলে আসল সত্যি জানালেন প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত

একটি মামলার শুনানিতে নিজের করা মন্তব্য নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক তৈরি হতেই অবস্থান পরিষ্কার করলেন ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত। শনিবার এক বিবৃতিতে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমের একটি অংশ তাঁর মৌখিক বক্তব্যকে ভুলভাবে উপস্থাপন করেছে। এতে তিনি অত্যন্ত দুঃখিত ও মর্মাহত হয়েছেন। তিনি দেশের যুবসমাজের সমালোচনা করেছেন বলে যে দাবি করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

প্রকৃত নিশানায় ভুয়া ডিগ্রিধারীরা

প্রধান বিচারপতি জানান, তাঁর মন্তব্য কোনোভাবেই দেশের সাধারণ তরুণদের উদ্দেশ্য করে ছিল না। মূলত যাঁরা জালিয়াতি ও ভুয়া ডিগ্রির আশ্রয় নিয়ে আইনি পেশায় প্রবেশ করছেন, তাঁদের প্রতিই ছিল এই ক্ষোভ। প্রধান বিচারপতির মতে, এই ধরনের অসাধু ব্যক্তিরা বার অ্যাসোসিয়েশন ছাড়াও সংবাদমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন সম্মানজনক পেশায় পরজীবীর মতো অনুপ্রবেশ করছে এবং সামগ্রিক ব্যবস্থার ওপর আঘাত হানছে। দেশের যুবসমাজকে ভারতের ভবিষ্যতের স্তম্ভ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভারতীয় তরুণরা তাঁকে প্রতিনিয়ত অনুপ্রাণিত করে।

বিতর্কের সূত্রপাত ও আদালতের কঠোর অবস্থান

দিল্লি হাইকোর্টের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা করতে চাওয়া আইনজীবী সঞ্জয় দুবের একটি আবেদন খারিজের সময় এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়। ওই আইনজীবী অভিযোগ করেছিলেন, সিনিয়র আইনজীবীর মর্যাদা দেওয়ার ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা মানছে না হাইকোর্ট। এই আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, সিনিয়র মর্যাদা কোনো ‘স্ট্যাটাস সিম্বল’ বা সামাজিক মর্যাদার প্রতীক নয়, এটি আদালত কর্তৃক প্রদত্ত সম্মান। এই শুনানির সময়ই ব্যবস্থার ওপর চড়াও হওয়া ব্যক্তিদের বোঝাতে ‘তেলাপোকা’ ও ‘পরজীবী’ শব্দগুলো ব্যবহার করেছিলেন প্রধান বিচারপতি, যা পরবর্তীতে ভুল ব্যাখ্যা পাওয়ায় এই বিভ্রান্তি ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়।

এক ঝলকে

  • একটি মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের করা মন্তব্য ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়।
  • প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট করেছেন যে, তাঁর মন্তব্য যুবসমাজের বিরুদ্ধে ছিল না, বরং ভুয়া ডিগ্রিধারী ও পরজীবীদের লক্ষ্য করে ছিল।
  • দেশের যুবসমাজকে উন্নত ভারতের প্রধান স্তম্ভ এবং নিজের অনুপ্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করেছেন সিজেআই।
  • জ্যেষ্ঠ আইনজীবীর মর্যাদা পাওয়ার আবেদনকে ঘিরে আইনজীবীর আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে আদালত এই পর্যবেক্ষণ দিয়েছিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *