আরজি কর: “এখনও বন্ধ ‘সেই ঘর’, দেওয়ালে রক্তের দাগ!” সিবিআই অফিসারের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক প্রমাণ লোপাটের অভিযোগ অভিজিতের

আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের নারকীয় হত্যাকাণ্ডের তদন্তে এবার যোগ হলো এক নতুন ও চাঞ্চল্যকর মোড়। রাজ্যে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই মামলার ফাইল নতুন করে খুলতেই তৎপরতা শুরু হয়েছে প্রশাসনে, যার জেরে ইতিমধ্যেই তিনজন আইপিএস আধিকারিককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এই চরম আবহেই শনিবার আরজি কর হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে এক গুচ্ছ মারাত্মক অভিযোগ তুললেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি তথা বর্তমান বিজেপি সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। হাসপাতাল চত্বর ঘুরে দেখার পর তিনি দাবি করেন, হাসপাতালের ভেতরে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘর এখনও রহস্যজনকভাবে তালাবন্ধ ও সিল করে রাখা হয়েছে, যার ভেতরের দেওয়ালে এখনও স্পষ্ট রক্তের দাগ লেগে রয়েছে।
তদন্তকারী অফিসারের ভূমিকা ও তথ্য ধামাচাপার অভিযোগ
প্রাক্তন বিচারপতি সরাসরি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের তৎকালীন মূল তদন্তকারী আধিকারিক সীমা পাহুজার সততা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, বিশ্বস্ত সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ওই মহিলা অফিসার তদন্ত প্রক্রিয়ার দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ ইচ্ছাকৃতভাবে করেননি। প্রথমত, গত দুই বছর ধরে বন্ধ থাকা ওই রহস্যময় ঘরটি খোলার কোনো প্রয়োজন বোধ করেনি সিবিআই, যেখানে অপরাধের বহু অকাট্য তথ্যপ্রমাণ পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। দ্বিতীয়ত, ঘটনার রাতে একটি নির্দিষ্ট সিঁড়ি দিয়ে মৃতদেহ নীচে নামানোর সময় হাসপাতালের একজন নার্স মোবাইলে তার ভিডিও রেকর্ড করেছিলেন। অভিযোগ, সীমা পাহুজা ওই নার্সকে চরম ভয় দেখিয়ে মোবাইল থেকে ভিডিওটি সম্পূর্ণ মুছে ফেলতে বাধ্য করেন এবং মূল কপিটি নিজের জিম্মায় নিয়ে নেন, যা পরবর্তীতে আর কখনো আদালতের সামনে আনা হয়নি।
প্রভাব ও সম্ভাব্য আইনি জটিলতা
অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের দাবি, ওই রহস্যময় সিঁড়িটি সরাসরি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সংকীর্ণ প্যাসেজের দিকে নেমে গিয়েছে, যেখান থেকে ওই তরুণী চিকিৎসকের ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়েছিল। সিসিটিভি ফুটেজ বা এই গুরুত্বপূর্ণ যাতায়াতের পথগুলো সিবিআই খতিয়ে দেখেনি বলে তাঁর দাবি। তবে তিনি সামগ্রিকভাবে সিবিআই সংস্থাকে কাঠগড়ায় না তুলে সুনির্দিষ্টভাবে তদন্তকারী অফিসার সীমা পাহুজার বিরুদ্ধেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তথ্যপ্রমাণ লোপাট এবং সত্য ধামাচাপা দেওয়ার অপরাধে সীমা পাহুজাকে এই মামলার অন্যতম অভিযুক্ত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে অবিলম্বে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। কার নির্দেশে বা কার দ্বারা প্রভাবিত হয়ে এই বিপুল তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা হলো, তা জানতে তিনি নতুন করে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
এক ঝলকে
- আরজি কর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে এক গুচ্ছ বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন বিজেপি সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।
- হাসপাতালের একটি বন্ধ ঘরের দেওয়ালে এখনও রক্তের দাগ রয়েছে এবং অপরাধের রাতে মৃতদেহ নামানোর একটি গোপন ভিডিও গায়েব করা হয়েছে বলে তাঁর দাবি।
- তৎকালীন সিবিআই তদন্তকারী প্রধান সীমা পাহুজার বিরুদ্ধে তথ্যপ্রমাণ লোপাট এবং সাক্ষীকে ভয় দেখানোর সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে।
- ঘটনার সত্যতা ধামাচাপা দেওয়ার অপরাধে ওই মহিলা অফিসারকে মামলার অন্যতম অভিযুক্ত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে হেফাজতে নেওয়ার দাবি উঠেছে।