৪২ বছর বয়সে মা হয়ে ৬০ লিটার মাতৃদুগ্ধ দান করে অনন্য নজির গড়লেন জড়ালা গুট্টা!

৪২ বছর বয়সে মা হয়ে ৬০ লিটার মাতৃদুগ্ধ দান করে অনন্য নজির গড়লেন জড়ালা গুট্টা!

ভারতীয় ব্যাডমিন্টন জগতের প্রাক্তন তারকা খেলোয়াড় জ্বালা গুট্টা সবসময়ই তাঁর স্পষ্টবাদিতা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার জন্য পরিচিত। দেশের হয়ে একাধিক বড় প্রতিযোগিতায় দুর্দান্ত পারফর্ম করা জ্বালা এবার এক অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং মানবিক কাজ করে সবার নজর কেড়েছেন। সম্প্রতি ৪২ বছর বয়সে মা হওয়ার পর তিনি হাসপাতালের নবজাতক শিশুদের জন্য প্রায় ৬০ লিটার মাতৃদুগ্ধ (ব্রেস্ট মিল্ক) দান করে সমাজের সামনে এক অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন।

জীবন বাঁচাতে মানবিক উদ্যোগ

চলতি বছরের এপ্রিল মাসে জ্বালা গুট্টা এক কন্যাসন্তানের জন্ম দেন, যার নাম রাখা হয়েছে ‘মীরা’। মাতৃত্বের আনন্দ উপভোগ করার পাশাপাশি তিনি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অসুস্থ ও অসহায় নবজাতকদের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। মূলত প্রসবকালীন জটিলতা, সময়ের আগে জন্ম নেওয়া (প্রি-ম্যাচিউর) বা গুরুতর অসুস্থতার কারণে অনেক শিশু মায়ের দুধ পায় না। চিকিৎসকদের মতে, নবজাতকদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে মাতৃদুগ্ধ অপরিহার্য। এই ঘাটতি পূরণে এবং শিশুদের জীবন রক্ষার্থেই জ্বালা গুট্টা এই বিপুল পরিমাণ দুধ দান করার উদ্যোগ নেন।

সামাজিক প্রভাব ও প্রশংসা

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জ্বালা গুট্টার এই মহৎ কাজের ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সব মহল থেকে প্রশংসার জোয়ার বইছে। এর আগে আগস্ট মাসে একটি আবেগঘন পোস্টে তিনি লিখেছিলেন যে, মাতৃদুগ্ধ জীবন বাঁচায় এবং সক্ষম মায়েদের এই দানে এগিয়ে আসা উচিত। এবার নিজের কথার সত্যতা প্রমাণ করে তিনি নিজেই প্রত্যক্ষভাবে এগিয়ে এলেন। তাঁর এই মানবিক পদক্ষেপ সমাজে স্তন্যদুগ্ধ দানের (ব্রেস্ট মিল্ক ডোনেশন) গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে এবং ভ্রান্ত ধারণা দূর করতে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এক ঝলকে

  • ৪২ বছর বয়সে কন্যাসন্তানের মা হয়ে প্রায় ৬০ লিটার মাতৃদুগ্ধ দান করলেন প্রাক্তন ব্যাডমিন্টন তারকা জ্বালা গুট্টা।
  • সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অসুস্থ ও সময়ের আগে জন্ম নেওয়া শিশুদের জীবন বাঁচাতে তিনি এই উদ্যোগ নেন।
  • মাতৃদুগ্ধ নবজাতকদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে অত্যন্ত জরুরি হওয়ায় এই দান অনেক শিশুর জন্য জীবনদায়ী হবে।
  • সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর এই মানবিক কাজের ছবি ভাইরাল হয়েছে এবং সর্বস্তরে প্রশংসা কুড়াচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *