সিবিএসই-তে বড় বদল: এবার থেকে পড়তে হবে ৩টি ভাষা, জারি হলো নয়া নির্দেশিকা

জাতীয় শিক্ষানীতি (এনইপি) ২০২০-এর সুপারিশ মেনে স্কুলশিক্ষায় বড়সড় পরিবর্তনের পথে হাঁটল সেন্ট্রাল বোর্ড অব সেকেন্ডারি এডুকেশন (সিবিএসই)। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের স্কুলপড়ুয়াদের জন্য এখন থেকে তিনটি ভাষা শেখা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকেই ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এই নির্দেশিকা কার্যকর করতে চলেছে বোর্ড। গত ১৫ মে সিবিএসই-র পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে, যা দেশের স্কুলশিক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পড়ুয়াদের ওপর প্রভাব ও সময়সীমা
বোর্ডের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির সব পড়ুয়াকে এই নিয়মের আওতায় আসতে হলেও, নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য সময়সীমা অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত। চলতি বছরের ১ জুলাই থেকেই নবম ও দশম শ্রেণির পড়ুয়াদের জন্য এই নতুন নিয়ম চালু হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে বর্তমান শিক্ষাবর্ষেই এই দুই শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাড়তি ভাষার চাপ সামলাতে হবে এবং মূল্যায়নের পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আসবে।
সিদ্ধান্তের কারণ ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা
ভারতের বহুভাষিক সংস্কৃতিকে উৎসাহিত করা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভাষাগত দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতদিন সিবিএসই বোর্ডে সাধারণত দুটি ভাষা পড়ার চল বেশি ছিল, তবে নতুন শিক্ষানীতির মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের নিজস্ব আঞ্চলিক ভাষার পাশাপাশি অন্যান্য ভারতীয় বা বিদেশি ভাষায় পারদর্শী করে তোলা। শিক্ষাবিদদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে পড়ুয়ারা ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা পেলেও, শিক্ষাবর্ষের মাঝপথে হুট করে নিয়ম কার্যকর করায় স্কুল ও শিক্ষার্থীদের ওপর সাময়িক বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে।
এক ঝলকে
- জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-এর অধীনে সিবিএসই স্কুলে ৩টি ভাষা শেখা বাধ্যতামূলক করা হলো।
- ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির পড়ুয়াদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।
- নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য চলতি বছরের ১ জুলাই থেকেই নতুন নিয়ম কার্যকর হচ্ছে।
- শিক্ষার্থীদের বহুভাষিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক ভাষার গুরুত্ব বাড়াতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।