ছুটির দিনেও খোলা আদালত! ডায়মন্ড হারবার রোডের আবাসন উচ্ছেদে হাই কোর্টের বড় স্থগিতাদেশ

কলকাতার ডায়মন্ড হারবার রোডের ধারের একটি ছয়তলা আবাসন খালি করার নির্দেশের ওপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করেছে কলকাতা হাই কোর্ট। সাধারণত ছুটির দিনে আদালতের স্বাভাবিক কাজকর্ম বন্ধ থাকলেও, পরিস্থিতির জরুরি অবস্থা বিবেচনা করে শনিবার বিশেষ বেঞ্চ গঠন করা হয়। বিচারপতি সুগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চ আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত দমকলের উচ্ছেদ নোটিসের ওপর এই স্থগিতাদেশ দিয়েছেন। আদালতের এই তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে আপাতত স্বস্তিতে ওই বহুতলের বাসিন্দারা।
উচ্ছেদের কারণ ও আইনি লড়াই
ঘটনার সূত্রপাত গত শুক্রবার, যখন দমকল বিভাগের ডিরেক্টর জেনারেল (ডিজি) উক্ত আবাসনটি খালি করার জন্য এক নোটিস জারি করেন। দমকলের দাবি, বহুতল ভবনটিতে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা নেই এবং এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। শনিবারের মধ্যেই বাসিন্দাদের ফ্ল্যাট ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হলে, চরম সংকটে পড়েন ২০০৮ সাল থেকে সেখানে বসবাসকারী পরিবারগুলো। মাত্র এক দিনের নোটিসে উচ্ছেদের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের দ্বারস্থ হন বাসিন্দাদের আইনজীবী কিশোর দত্ত। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে প্রধান বিচারপতি ছুটির দিনেও আদালত বসানোর বিশেষ অনুমতি দেন।
আদালতের পর্যবেক্ষণ ও প্রভাব
শনিবার দুপুর ২টোর শুনানিতে মামলাকারীর আইনজীবী সওয়াল করেন, কোনো রকম স্পষ্ট তথ্য বা প্রাণহানির তাৎক্ষণিক আশঙ্কা প্রমাণ না করেই মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মানুষকে ঘরছাড়া করার এই নির্দেশ সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। দু’পক্ষের বক্তব্য শোনার পর হাই কোর্ট পর্যবেক্ষণ করে যে, আইনের নিয়ম মেনে উচ্ছেদের নোটিসে বিপদের সুনির্দিষ্ট কারণ বা ব্যাখ্যা স্পষ্ট করা হয়নি। ফলে আদালত উচ্ছেদের ওপর স্থগিতাদেশ দেওয়ার পাশাপাশি রাজ্যের কাছে জানতে চেয়েছে— ঠিক কী ধরনের ত্রুটি বা বিপদের কারণে এমন জরুরি পদক্ষেপের প্রয়োজন হলো। আগামী ৮ জুনের পরবর্তী শুনানিতে রাজ্যকে এ বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে হবে।
এক ঝলকে
- ডায়মন্ড হারবার রোডের ছ’তলা আবাসন খালি করার নির্দেশে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত স্থগিতাদেশ দিল হাই কোর্ট।
- পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা না থাকার অভিযোগে মাত্র এক দিনের নোটিসে বাসিন্দাদের উচ্ছেদের নির্দেশ দিয়েছিল দমকল বিভাগ।
- বাসিন্দাদের জরুরি আবেদনের ভিত্তিতে প্রধান বিচারপতির অনুমতিতে শনিবার ছুটির দিনে বসে হাই কোর্টের বিশেষ বেঞ্চ।
- কোন রিপোর্টের ভিত্তিতে এবং কেন এত জরুরি ভিত্তিতে উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো, তা আগামী ৮ জুনের মধ্যে রাজ্যকে জানাতে বলেছে আদালত।