ভারত-নেদারল্যান্ডস ঐতিহাসিক চুক্তি: সেমিকন্ডাক্টর থেকে গ্রিন হাইড্রোজেন, সম্পর্কে নতুন যুগের সূচনা!

ভারত-নেদারল্যান্ডস ঐতিহাসিক চুক্তি: সেমিকন্ডাক্টর থেকে গ্রিন হাইড্রোজেন, সম্পর্কে নতুন যুগের সূচনা!

ভারত ও নেদারল্যান্ডসের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। নেদারল্যান্ডস সফরে যাওয়া ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং সে দেশের নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী রব জেটেন-এর মধ্যে ডাচ প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে একটি উচ্চ-পর্যায়ের প্রতিনিধি দল পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই বৈঠকের মাধ্যমে দুই দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের সম্পর্ককে কৌশলগত অংশীদারিত্বে রূপান্তর করেছে। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, সেমিকন্ডাক্টর, গ্রিন এনার্জি, প্রতিরক্ষা এবং জল ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে দুই দেশ সম্মত হয়েছে। বিদেশ মন্ত্রকের সচিব (পশ্চিম) সিবি জর্জ এই বৈঠককে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

প্রযুক্তি ও পরিবেশ খাতে যুগান্তকারী পদক্ষেপ

ভারতের সেমিকন্ডাক্টর ইকোসিস্টেমকে শক্তিশালী করতে এই সফরে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ডাচ কো ম্পা নি এএসএমএল (ASML) এবং ভারতের টাটা ইলেকট্রনিক্স-এর মধ্যে একটি যৌথ চুক্তি হয়েছে, যা গুজরাতের ধোলেরায় সেমিকন্ডাক্টর ফ্যাব্রিকেশন সুবিধা তৈরিতে সহায়তা করবে। এটি ভারতের প্রযুক্তি খাতের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, যা দেশে উচ্চ-দক্ষতাসম্পন্ন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। পাশাপাশি, জলবায়ু এবং পরিবেশবান্ধব শক্তির কথা মাথায় রেখে দুই দেশ একটি উচ্চাভিলাষী ‘গ্রিন হাইড্রোজেন রোডম্যাপ’ গ্রহণ করেছে। এই রোডম্যাপের লক্ষ্য ভারতে গ্রিন হাইড্রোজেন উৎপাদন, অভ্যন্তরীণ ব্যবহার এবং রপ্তানি বৃদ্ধি করা। একই সাথে দুই দেশের বন্দরগুলোকে সংযুক্ত করতে একটি গ্রিন এবং ডিজিটাল মেরিটাইম করিডোর গড়ে তোলার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

জল ব্যবস্থাপনা ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা

জল ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও সম্প্রসারিত করতে আইআইটি (IIT) দিল্লিতে একটি জল গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভারতের জল শক্তি মন্ত্রক এবং নেদারল্যান্ডসের পরিকাঠামো ও জল ব্যবস্থাপনা মন্ত্রকের যৌথ সহযোগিতায় এই সেন্টার অব এক্সিলেন্স তৈরি হবে। এর পাশাপাশি গুজরাতের উচ্চাভিলাষী ‘কল্পসর প্রকল্প’-এর প্রযুক্তিগত সহায়তার জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। সৌরাষ্ট্র অঞ্চলে জল সুরক্ষার জন্য স্বাদু জলের জলাশয় তৈরির লক্ষ্যে এই মেগা-ওয়াটার প্রজেক্টটি হাতে নেওয়া হয়েছে। যেহেতু উত্তর নেদারল্যান্ডসে একই ধরনের পরিকাঠামো বা ডাইক রয়েছে, তাই ডাচ বিশেষজ্ঞদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ভারতের এই প্রকল্প বাস্তবায়নে অত্যন্ত সহায়ক হবে।

এই ঐতিহাসিক সফরের ফলে ভারত ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে শুধু ব্যবসাই বাড়বে না, বরং বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইন শক্তিশালী হবে এবং উন্নত প্রযুক্তির আদান-প্রদান সহজ হবে। ভারতের বিশাল বাজার এবং নেদারল্যান্ডসের উন্নত প্রযুক্তিগত দক্ষতার এই মেলবন্ধন আগামী দিনে দুই দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতাকে আরও ত্বরান্বিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী মোদী ডাচ রাজপরিবারের সদস্যদের সাথেও সাক্ষাৎ করেন এবং নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানান।

এক ঝলকে

  • ভারত ও নেদারল্যান্ডস আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে কৌশলগত অংশীদারিত্বে রূপান্তর করেছে।
  • গুজরাতের ধোলেরায় সেমিকন্ডাক্টর ফ্যাব্রিকেশন সুবিধার জন্য ডাচ সংস্থা ASML এবং ভারতের টাটা ইলেকট্রনিক্স-এর মধ্যে ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছে।
  • পরিবেশবান্ধব শক্তি উৎপাদনে গতি আনতে দুই দেশ একটি যৌথ ‘গ্রিন হাইড্রোজেন রোডম্যাপ’ গ্রহণ করেছে।
  • জল ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতার অংশ হিসেবে আইআইটি দিল্লিতে জল গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন এবং গুজরাতের কল্পসর প্রকল্পের জন্য প্রযুক্তিগত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *