রাজ্যে বড় বদল! ফের ফিরছে পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণির ‘পাশ-ফেল’ প্রথা?

পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষাব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরপরই প্রাথমিক ও উচ্চ-প্রাথমিক স্তরে পুনরায় ‘পাশ-ফেল’ প্রথা ফিরিয়ে আনার ইঙ্গিত মিলছে। শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে এই মুহূর্তে রাজ্যের শিক্ষামহলে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের পূর্বঘোষিত শিক্ষানীতিকে রাজ্যে কার্যকর করার লক্ষ্যেই এই তোড়জোড় চলছে বলে জানা গেছে।
কেন্দ্রীয় নীতির বাস্তবায়ন ও নতুন তৎপরতা
২০২৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রক শিক্ষার অধিকার আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী এনে পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাশ-ফেল ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল। তবে তৎকালীন রাজ্য সরকারের আপত্তিতে এতদিন বাংলায় তা কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে রাজ্যে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলাতেই সেই থমকে থাকা নীতি পুনরায় চালুর প্রক্রিয়া গতি পেয়েছে। বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ জানিয়েছেন, দলের শিক্ষা জগতের সঙ্গে যুক্ত বিধায়ক এবং রাজ্যের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদদের সঙ্গে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা চলছে। খুব শীঘ্রই একটি পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তৈরি করে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে জমা দেওয়া হবে। এই শিক্ষানীতি পুনর্গঠনের লক্ষ্যে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং স্বপন দাশগুপ্তের সঙ্গেও দ্রুত বৈঠকে বসতে চলেছেন শঙ্কর ঘোষ।
কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যে প্রাথমিক স্তরে পাশ-ফেল না থাকার কারণে পড়ুয়াদের বুনিয়াদি শিক্ষায় খামতি তৈরি হচ্ছিল বলে দাবি একাংশের শিক্ষাবিদদের। পরবর্তী উচ্চতর শ্রেণিতে উঠে আচমকা মূল্যায়নের মুখোমুখি হতে গিয়ে বহু পড়ুয়া সমস্যার পড়ছিল। এই ব্যবস্থার পরিবর্তনের ফলে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব এবং পড়াশোনার প্রতি দায়বদ্ধতা বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে আচমকা এই নীতি চালুর ফলে গ্রামীণ ও পিছিয়ে পড়া এলাকার পড়ুয়াদের মধ্যে স্কুলছুটের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞদের একাংশ। রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলের মতে, সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে ক্লাস ফাইভ থেকে ক্লাস এইট পর্যন্ত পাশ-ফেল ব্যবস্থা পুনরায় চালু হওয়া এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা।