‘তৃণমূল জমানার হিংসার ফাইল খুলবেই’, ডায়মন্ড হারবারে দাঁড়িয়ে পুলিশকে কড়া নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর!

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে এক ঐতিহাসিক পালাবদলের পর রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। মসনদে বসেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম প্রধান গড় বলে পরিচিত ডায়মন্ড হারবারে দাঁড়িয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে তীব্র আক্রমণ শানালেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দলীয় এক বিশাল কর্মী সম্মেলনে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি স্পষ্ট করে দেন, বিগত সরকারের আমলের রাজনৈতিক হিংসা ও দুর্নীতির দিন শেষ হতে চলেছে। এই রাজনৈতিক পরিবর্তনকে বাংলার সাধারণ মানুষের জন্য ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা’ বলে অভিহিত করে নবান্নের নতুন শাসকের বার্তা, রাজ্যে এবার প্রকৃত অর্থেই আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে।
তদন্তের আতসকাচে ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্প
ডায়মন্ড হারবারের সভা থেকে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরাসরি আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংস্থা ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর নাম উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, এই কো ম্পা নির আড়ালে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ ও বেনামি সম্পত্তি তৈরি করা হয়েছে, যার সম্পূর্ণ তালিকা বর্তমানে সরকারের কাছে রয়েছে। এই সংস্থার সমস্ত আর্থিক লেনদেনের পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করার পাশাপাশি পিএম আবাস যোজনা এবং ১০০ দিনের কাজের মতো কেন্দ্রীয় প্রকল্পে হওয়া দুর্নীতির ফাইলও পুনরায় খোলা হচ্ছে। এই সমস্ত কেলেঙ্কারির সঙ্গে যুক্ত প্রভাবশালী নেতা ও সরকারি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে এফআইআর (FIR) দায়ের করার জন্য পুলিশ প্রশাসনকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক হিংসার মোকাবিলা ও ফলতা উপনির্বাচনে ‘জিরো টলারেন্স’
বিগত বছরগুলিতে বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের ওপর হওয়া ধারাবাহিক অত্যাচার ও মিথ্যা মামলার প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী জানান, অতীতের সমস্ত সহিংসতার ঘটনা খতিয়ে দেখে আইনি পথে বদলা নেওয়া হবে। এর পাশাপাশি ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ফলতা বিধানসভা আসনের আসন্ন উপনির্বাচন নিয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছেন তিনি। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট করানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গীর খানকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রশাসনকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, ভোটারদের ভয় দেখানোর বা অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করা হলে কোনো রকম আপস না করে কঠোরতম আইনি পদক্ষেপ করা হবে।
কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
দীর্ঘদিন ধরে চলা রাজনৈতিক সংঘর্ষ, কেন্দ্রীয় প্রকল্পের অর্থ নয়ছয় এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনমানসে তৈরি হওয়া ক্ষোভই মূলত এই রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রধান কারণ। নতুন সরকারের এই মারমুখী আইনি অবস্থান এবং ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কারণে আগামী দিনে রাজ্যের পুলিশ ও প্রশাসনিক স্তরে বড়সড় রদবদল ঘটতে পারে। একই সঙ্গে, প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হলে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা রাজ্যের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার ওপর এক গভীর প্রভাব ফেলবে।