“রাস্তা বন্ধ করে সাধারণ মানুষকে হেনস্থা করা যাবে না”, আসানসোল হিংসায় চরম হুঁশিয়ারি অগ্নিমিত্রা পালের

“রাস্তা বন্ধ করে সাধারণ মানুষকে হেনস্থা করা যাবে না”, আসানসোল হিংসায় চরম হুঁশিয়ারি অগ্নিমিত্রা পালের

আসানসোলের জাহাঙ্গীর মহল্লা এলাকায় সুপ্রিম কোর্টের শব্দবিধি মেনে মসজিদের লাউডস্পিকারের আওয়াজ কমানোর অনুরোধ করতে গিয়ে আক্রান্ত হতে হলো পুলিশকে। শুক্রবার রাতের এই ঘটনায় উত্তেজিত জনতা স্থানীয় একটি পুলিশ ফাঁড়িতে চড়াও হয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও ইটবৃষ্টি চালায়। হামলায় বেশ কয়েকটি সরকারি ও সাধারণ নাগরিকের গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে লাঠিচার্জ করতে হয়। এই হিংসাত্মক ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শনিবার পর্যন্ত অন্তত সাতজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এলাকায় বর্তমানে পুলিশ পিকট বসানো হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত ও সংঘাত

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শব্দদূষণ সংক্রান্ত একটি নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে শুক্রবার রাত ৯টা নাগাদ পুলিশের একটি দল স্থানীয় বাসিন্দা ও মসজিদ কর্তৃপক্ষের কাছে লাউডস্পিকারের আওয়াজ কিছুটা কমানোর অনুরোধ জানাতে যায়। এই পদক্ষেপের পরই স্থানীয়দের একাংশ ক্ষুব্ধ হয়ে ফাঁড়ির সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই বিক্ষোভ চরম আকার ধারণ করে এবং বচসা থেকে হাতাহাতি শুরু হয়। এরপরই উন্মত্ত জনতা পুলিশ ফাঁড়ি লক্ষ্য করে ইট ও পাথর ছুড়তে শুরু করে। আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের ডেপুটি কমিশনার (ডিডিসি) ধ্রুব দাস জানান, সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করা হচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আইনি বাধ্যবাধকতা ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা অনুযায়ী, জনপথ বা রাস্তা অবরোধ করে কোনো ধর্মীয় অনুষ্ঠান করা যাবে না এবং সমস্ত ধর্মীয় স্থানে লাউডস্পিকারের আওয়াজ অবশ্যই নির্দিষ্ট সীমার (৬৫ থেকে ৭৫ ডেসিবেল) মধ্যে রাখতে হবে। এই নিয়ম কার্যকর করতে রাজ্যজুড়ে পুলিশ ও প্রশাসন ধারাবাহিক বৈঠক করছে।

এই আবহে আসানসোলের ঘটনা প্রসঙ্গে শনিবার কড়া বার্তা দিয়েছেন স্থানীয় বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি স্পষ্ট জানান যে, জনসাধারণের অসুবিধা হয় এমন কোনো কাজ বরদাস্ত করা হবে না। ধর্মীয় পরিচয় নির্বিশেষে রাস্তা অবরোধ করে সাধারণ মানুষকে হেনস্থা করা যাবে না এবং ডিজে বা লাউডস্পিকার যাই বাজুক না কেন, তা অনুমোদিত আইনি সীমার মধ্যেই বাজাতে হবে। আইনি নির্দেশিকা অমান্য করা এবং আইনশৃঙ্খলার ওপর এই আঘাতের ফলে আগামীদিনে ওই এলাকায় ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানগুলিতে প্রশাসনের নজরদারি আরও কঠোর হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *