‘মেয়ের ওপর হামলা, আমার মুখে অ্যাসিড মারার ছক!’ তৃণমূলের বিরুদ্ধে বৈশাখীর বিস্ফোরক বোমা

ভোটের ঠিক আগে ঘটা করে শাসকদলে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু ভোট আসতেই সেভাবে দেখা মেলেনি তাঁর। রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছিল তাঁর ‘নিষ্ক্রিয়তা’ নিয়ে। অবশেষে মুখ খুললেন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। আর মুখ খুলেই বিস্ফোরক সমস্ত অভিযোগ এনে সরাসরি নিশানায় নিলেন নিজের দলকেই। একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি সাফ জানিয়েছেন, দলের অহংকার ও দম্ভের কারণেই এই ভরাডুবি।
তবে শুধু রাজনৈতিক সমালোচনাতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি তাঁর মন্তব্য। বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, তাঁর মেয়েকে খুনের চক্রান্ত করা হয়েছিল। এখানেই শেষ নয়, তাঁর নিজের মুখে অ্যাসিড ছোড়ার পরিকল্পনাও করা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন তিনি। আর এই ভয়ঙ্কর পরিকল্পনার নেপথ্যে খোদ তৃণমূল কংগ্রেসের ভেতরেরই কেউ জড়িত ছিলেন বলে তাঁর অভিযোগ।
কোন্দল বনাম ব্যক্তিগত নিরাপত্তা
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বিস্ফোরক দাবি শাসকদলের ভেতরের তীব্র অন্তর্দ্বন্দ্ব এবং সমন্বয়ের অভাবকে আবার সামনে এনে দিল। ভোটের আগে দলে যোগ দিয়েও কেন তিনি নিষ্ক্রিয় ছিলেন, তার একটি বড় কারণ হিসেবে উঠে আসছে এই নিরাপত্তাহীনতা ও হুমকির বিষয়টি। নিজের দলেরই একাংশের বিরুদ্ধে এই পর্যায়ের গুরুতর অভিযোগ তোলায় দলের অন্দরের ফাটল স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
আগামী দিনের রাজনৈতিক প্রভাব
এই ঘটনার ফলে দলের ভাবমূর্তি যেমন ধাক্কা খাবে, তেমনই বিরোধী শিবিরও শাসকদলকে কোণঠাসা করার নতুন অস্ত্র পেয়ে গেল। একজন সদ্য যোগ দেওয়া নেত্রীর মুখ থেকে নিজের দলের বিরুদ্ধেই খুন ও অ্যাসিড হামলার চক্রান্তের মতো মারাত্মক অভিযোগ আসায় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। এর ফলে দলের কর্মীদের মনোবল যেমন কমতে পারে, তেমনই সাধারণ মানুষের কাছেও দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা নিয়ে নেতিবাচক বার্তা যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।