কলকাতায় নো-পার্কিংয়ে গাড়ি রাখলেই ৫০০ টাকা জরিমানা! কড়া অ্যাকশনে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা

কলকাতায় নো-পার্কিংয়ে গাড়ি রাখলেই ৫০০ টাকা জরিমানা! কড়া অ্যাকশনে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা

কলকাতা শহরের যানজট দমাতে এবং যত্রতত্র বেআইনি পার্কিংয়ের দাপট রুখতে এবার কোমর বেঁধে নামল প্রশাসন। এখন থেকে মহানগরের নির্ধারিত নো পার্কিং জোনে গাড়ি রাখলেই গুনতে হবে ৫০০ টাকা জরিমানা। একই সঙ্গে শহরের বুকে চলা অবৈধ পার্কিংয়ের রমরমা বন্ধ করতে কলকাতা পুলিশ ও পুরসভাকে কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যের নবনিযুক্ত পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল। ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রাজ্যের বিজেপি সরকার একাধিক নীতি-নিয়মে কড়াকড়ি আনছে, যারই ধারাবাহিকতায় এবার কলকাতার পার্কিং ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর প্রক্রিয়া শুরু হলো।

কড়া নজরদারিতে কলকাতা পুলিশ, বন্ধ হচ্ছে ভুয়ো স্লিপের রমরমা

ইতিমধ্যেই কলকাতা পুরসভা অনুমোদিত জোনের বাইরে সমস্ত ধরণের পার্কিং নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শহরের মোট ২৭টি ট্রাফিক গার্ড এলাকায় বেআইনি পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে কলকাতা পুলিশ। মন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, রাস্তার দু’ধারে যেখানে পার্কিংয়ের নিয়ম নেই, সেখানে কোনো গাড়ি রাখা যাবে না এবং এই বিষয়ে দ্রুত নোটিস জারি করা হচ্ছে।

যানবাহন চালকদের সুবিধার্থে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে পার্কিংয়ের জায়গাগুলিতে নির্দিষ্ট নিয়মাবলী বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। এখন থেকে ওয়ান লাইন পার্কিং, পার্কিংয়ের জন্য নির্ধারিত জায়গার পরিমাণ এবং নির্দিষ্ট ফি-র অঙ্ক স্পষ্ট অক্ষরে ডিসপ্লে বোর্ডে লিখে টাঙিয়ে রাখতে হবে। পার্কিংয়ের দায়িত্বে থাকা কর্মীদের জন্য নির্দিষ্ট পোশাক পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। মন্ত্রীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ভুয়ো স্লিপ দিয়ে বেআইনিভাবে টাকা তোলা হতো, যার একটি টাকাও সরকারি রাজস্বে জমা পড়ত না। এই ধরণের অবৈধ অর্থ উসুল বন্ধ করতে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

কড়াকড়ির কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

কলকাতার মতো ঘিঞ্জি মহানগরে যানজটের অন্যতম প্রধান কারণ হলো রাস্তার সিংহভাগ জুড়ে থাকা অবৈধ পার্কিং। যত্রতত্র গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকার ফলে রাস্তার ধারণক্ষমতা কমে যায় এবং নিত্যযাত্রীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়। সরকারি নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে গড়ে ওঠা এই সিন্ডিকেট বন্ধ করতেই প্রশাসনের এই আকস্মিক কড়াকড়ি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কড়া নির্দেশিকা সঠিকভাবে কার্যকর হলে কলকাতার রাজপথের যানজট অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে। নির্ধারিত ফি-র বাইরে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের প্রবণতা বন্ধ হওয়ায় সাধারণ মানুষ যেমন স্বস্তি পাবেন, তেমনই ডিজিটাল ও স্বচ্ছ ব্যবস্থার কারণে সরকারি রাজস্ব বৃদ্ধির সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। তবে এই নিয়ম দীর্ঘমেয়াদে কতটা সফল হয়, তা নির্ভর করছে পুলিশ ও পুরসভার ধারাবাহিক নজরদারির ওপর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *