লক্ষ্মীর ভাণ্ডার অতীত! জুনেই অ্যাকাউন্টে ঢুকবে ৩০০০ টাকা, আবেদনের নিয়ম জানালেন মন্ত্রী

লক্ষ্মীর ভাণ্ডারকে পেছনে ফেলে এবার জুন থেকেই মহিলাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ঢুকবে দ্বিগুণ টাকা! রাজ্য সরকারের নতুন ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্প ঘিরে সাধারণ মানুষের মনে তৈরি হওয়া দীর্ঘদিনের জল্পনার অবসান ঘটালেন নবনিযুক্ত পুর ও নারী শিশু কল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। আগামী ১ জুন থেকেই এই প্রকল্পের সুবিধা মিলবে এবং মহিলারা প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে পাবেন বলে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে।
আবেদনের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া হবে ডিজিটাল
এতদিন এই প্রকল্পের আবেদন প্রক্রিয়া নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছিল। অনেকেই ভাবছিলেন অফলাইনে বা ‘দুয়ারে সরকার’ ক্যাম্পের মাধ্যমে ফর্ম জমা দিতে হবে। তবে মন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, মা-বোনদের হয়রানি কমাতে পুরো ব্যবস্থাটি অনলাইনেই করা হবে। এর জন্য একটি অত্যন্ত সহজ ও সরল পোর্টাল তৈরি করা হচ্ছে, যাতে সাধারণ মহিলারা ঘরে বসেই কোনো জটিলতা ছাড়া অনলাইনেই নিজেদের আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেন।
কারা পাবেন এবং কাদের নাম বাদ যাবে
মন্ত্রী জানিয়েছেন, যারা আগে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধা পাচ্ছিলেন, তারা সকলেই এই নতুন অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ৯১ লক্ষ নাম নিয়ে পুনরায় পর্যালোচনা করা হবে এবং ট্রাইব্যুনালে নাম থাকা ব্যক্তি কিংবা সিএএ (CAA)-এর জন্য আবেদনকারীরাও এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন না। তবে যাচাই প্রক্রিয়ায় যারা অযোগ্য বলে প্রমাণিত হবেন, কেউ মারা গিয়ে থাকলে কিংবা কেউ বাংলাদেশের নাগরিক হলে তাদের নাম তালিকা থেকে কঠোরভাবে বাদ দেওয়া হবে।
বর্তমানে এই প্রকল্পের জন্য কোনো অফলাইন ফর্ম বিলি বা অনলাইন পোর্টাল চালু করা হয়নি, দ্রুতই পোর্টালটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যের কোটি কোটি মহিলার আর্থিক ক্ষমতায়ন আরও সুদৃঢ় হবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে এর একটি বড় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
এক ঝলকে
- আগামী ১ জুন থেকে চালু হচ্ছে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্প এবং প্রতি মাসে মহিলারা পাবেন ৩,০০০ টাকা।
- প্রকল্পের আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অনলাইনের মাধ্যমে হবে এবং এর জন্য সহজ পোর্টাল তৈরি করা হচ্ছে।
- লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রাপকদের পাশাপাশি সিএএ আবেদনকারী এবং ট্রাইব্যুনালে নাম থাকা মহিলারাও এই সুবিধা পাবেন।
- মৃত ব্যক্তি, অযোগ্য আবেদনকারী এবং বাংলাদেশের নাগরিকরা এই প্রকল্পের সুবিধা থেকে বাদ পড়বেন।