অবশেষে ভাঙা হচ্ছে কবি সুভাষ স্টেশন! কবে থেকে ফের চালু মেট্রো? মিলল বড় আপডেট

গত বছর ২৮ জুলাই কবি সুভাষ মেট্রো স্টেশনের পিলারে ফাটল ও একাধিক মারাত্মক ত্রুটি ধরা পড়ার পর যাত্রী সুরক্ষার স্বার্থে স্টেশনটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘ ১০ মাস পর, রবিবার থেকে অবশেষে সেই ত্রুটিপূর্ণ স্টেশনটি ভাঙার কাজ শুরু করল মেট্রো কর্তৃপক্ষ। বছরের শুরুতেই নতুন কবি সুভাষ স্টেশনের ব্লু-প্রিন্ট বা নকশা তৈরির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সবকিছু পরিকল্পনা মাফিক চললে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই নতুন স্টেশন ভবনের নির্মাণকাজ শেষ করে তা সাধারণ যাত্রীদের জন্য খুলে দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পরিষেবায় সাময়িক বদল ও রেক রিভার্সাল
স্টেশন ভাঙা ও পুনর্নির্মাণের কাজ নির্বিঘ্নে চালাতে রবিবার দিনভর মহানায়ক উত্তম কুমার থেকে শহিদ ক্ষুদিরাম পর্যন্ত মেট্রো চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়। এই মেগা ব্লকের মূল উদ্দেশ্য ছিল শহিদ ক্ষুদিরাম স্টেশনে ‘রেক রিভার্সাল’ বা ট্রেন ঘোরানোর স্থায়ী ব্যবস্থা করা। এত দিন কবি সুভাষ স্টেশন বন্ধ থাকলেও ডাউন লাইনের ট্রেনটিকে ফাঁকা অবস্থায় কবি সুভাষ পর্যন্ত নিয়ে গিয়ে সেখান থেকে আপ লাইনে ঘোরানো হতো। এখন থেকে শহিদ ক্ষুদিরাম স্টেশন থেকেই ডাউন লাইনের মেট্রো ঘুরে সরাসরি আপ লাইনে চলে যেতে পারবে।
যাত্রী ভোগান্তি ও ভবিষ্যতের প্রভাব
মেট্রো স্টেশনটি বন্ধ থাকায় গত ১০ মাস ধরে দক্ষিণেশ্বর থেকে আসা ট্রেনগুলি শহিদ ক্ষুদিরাম স্টেশন পর্যন্তই যাতায়াত করছে। এর ফলে কবি সুভাষ তথা নিউ গড়িয়া সংলগ্ন এলাকার নিত্যযাত্রীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে, কারণ এটি একটি অন্যতম প্রধান ইন্টারচেঞ্জ স্টেশন। তবে নতুন স্টেশনটি আধুনিক নকশায় পুনর্নির্মিত হলে দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষার সংকট কাটবে। একই সাথে কবি সুভাষকে কেন্দ্র করে কলকাতা মেট্রোর উত্তর-দক্ষিণ ও পূর্ব-পশ্চিম করিডোরের সংযোগস্থলটি আরও শক্তিশালী ও নিরাপদ হয়ে উঠবে।
এক ঝলকে
- পিলারে ফাটল ও ত্রুটির কারণে দীর্ঘ ১০ মাস বন্ধ থাকার পর অবশেষে শুরু হলো কবি সুভাষ মেট্রো স্টেশন ভাঙার কাজ।
- চলতি বছরের শুরুর দিকেই নতুন স্টেশনের নকশা চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
- শহিদ ক্ষুদিরাম স্টেশনে স্থায়ীভাবে ট্রেন ঘোরানোর বা রেক রিভার্সাল ব্যবস্থার কাজ সম্পন্ন করতে রবিবার মহানায়ক উত্তম কুমার পর্যন্ত পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়।
- নতুন স্টেশনটি চালু হলে দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও গড়িয়া সংলগ্ন এলাকার লক্ষাধিক নিত্যযাত্রীর দীর্ঘদিনের যাতায়াত সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে।