“একেন বাবুর মাথায় চুল গজালেও তৃণমূল আর ফিরবে না!” ফলতায় দেদার টিপ্পনী শমীকের

ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের হাইভোল্টেজ পুনর্নির্বাচনের মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার মাটিতে দাঁড়িয়ে শাসকদলকে তীব্র আক্রমণ শোনাল বিজেপি। রবিবার ফলতার দলীয় জনসভা থেকে বিদায়ী তৃণমূল সরকারকে ‘অতীত’ আখ্যা দিয়ে তীব্র তোপ দাগেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ২০৭টি আসন পেয়ে রাজ্যে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে গেরুয়া শিবিরের সরকার গড়ার আত্মবিশ্বাস এ দিন শমীকের বক্তৃতায় ছিল স্পষ্ট।
পরাজয়ের গ্লানি ও খোঁচা
তৃণমূলের প্রাক্তন ‘দুর্গ’ বলে পরিচিত ডায়মন্ড হারবার লোকসভা এলাকার অন্তর্গত এই ফলতায় দাঁড়িয়ে চেনা রসিকতার সুরে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, একেন বাবুর মাথায় চুল গজালেও গজাতে পারে, তবু তৃণমূল আর কোনো দিন এ রাজ্যে ক্ষমতায় আসতে পারবে না। বিদায়ী সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনের আগের ‘ডিজে বাজানোর’ হুঁশিয়ারিকে কটাক্ষ করে তিনি যোগ করেন, এখন ডিজের বদলে তৃণমূল নেতাদের ঘরে ঘরে বিষাদের হারমোনিয়াম বাজছে। ৪ মে ফলপ্রকাশের পর জনরোষের ভয়ে তৃণমূলের মন্ত্রী ও নেতারা মুখ লুকিয়ে বেড়াচ্ছেন বলেও তিনি দাবি করেন।
প্রতিকূলতা জয় ও পরিবর্তনের বার্তা
বিজেপি নেতৃত্বের মতে, বিগত সরকারের আমলে নেতা, মন্ত্রী এবং পুলিশ-প্রশাসন মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছিল। সেই চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও ডায়মন্ড হারবারে বিজেপির কর্মীরা দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই চালিয়ে গিয়েছেন এবং ফলস্বরূপ মানুষ আজ তৃণমূলকে রাজনৈতিকভাবে নির্বাসিত করেছে। আগামী ২১ মে ফলতার এই পুনর্নির্বাচনেও বিজেপি প্রার্থীর জয় এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা বলে দাবি করেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি। এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ফলে ফলতাসহ সমগ্র রাজ্যে তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তি আরও ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
এক ঝলকে
- ফলতা পুনর্নির্বাচনের ৪৮ ঘণ্টা আগে তৃণমূলকে ‘অতীত’ বলে তীব্র আক্রমণ শমীক ভট্টাচার্যের।
- বিদায়ী সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুরোনো হুঁশিয়ারি টেনে ‘বিষাদের হারমোনিয়াম’ বাজার কটাক্ষ।
- ছাব্বিশের নির্বাচনে ২০৭টি আসন পেয়ে রাজ্যে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতায় বিজেপি সরকার গড়ার আত্মবিশ্বাস প্রকাশ।
- ২১ মে ফলতার পুনর্নির্বাচনেও পদ্ম শিবিরের জয় নিশ্চিত বলে দাবি বিজেপি রাজ্য সভাপতির।