সপ্তম পে কমিশনে ‘লটারি’! এক ধাক্কায় ১০-১২ হাজার টাকা বাড়তে পারে রাজ্য সরকারি কর্মীদের বেতন

পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি এবং মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। ষষ্ঠ পে কমিশনের মেয়াদ গত ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে শেষ হওয়ার পর, নিয়ম অনুযায়ী ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে সপ্তম পে কমিশন কার্যকর হওয়ার কথা। নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আসন্ন মন্ত্রিসভার বৈঠকে ডিএ ও সপ্তম পে কমিশন নিয়ে আলোচনার ইঙ্গিত দেওয়ায় কর্মচারীদের মধ্যে আশার আলো দেখছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
বেতন বৃদ্ধির সম্ভাব্য অঙ্ক
কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন বেতন কমিশনে ‘ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর’ নির্ধারণ করা হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। উদাহরণস্বরূপ, বর্তমানে কারও মূল বেতন (বেসিক পে) ১৮,০০০ টাকা হলে, ২.৯১ গুণ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরে তা বেড়ে ৫২,৩৮০ টাকা হতে পারে। আবার এই ফ্যাক্টর ৩.১৫ গুণ হলে নতুন মূল বেতন দাঁড়াতে পারে ৫৬,৭০০ টাকায়। এর সঙ্গে যুক্ত হবে সংশোধিত বাড়ি ভাড়া ভাতা (এইচআরআই) এবং মহার্ঘ ভাতা, যার ফলে সামগ্রিক বেতন এক লাফে অনেকটাই বেড়ে যাবে।
আর্থিক বৈষম্য দূরীকরণের সম্ভাবনা
আন্দোলনকারী যৌথ মঞ্চের নেতৃত্বদের মতে, এতদিন কেন্দ্রীয় হার অপেক্ষা রাজ্যের শিক্ষকরা মূল বেতনে প্রায় ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা কম পেতেন। প্রাথমিকের শিক্ষকদের ক্ষেত্রে এই ফারাক ছিল প্রায় ৮ হাজার টাকা। আইন মেনে সঠিক উপায়ে সপ্তম পে কমিশন এবং বকেয়া ডিএ কার্যকর হলে, ৩০,০০০ টাকা বেসিক পে যুক্ত কর্মচারীদের বেতন অন্ততপক্ষে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা বৃদ্ধি পাবে। তবে ক্যাডার ভিত্তিক বেতনের তারতম্যের কারণে চূড়ান্ত রূপরেখা স্পষ্ট হতে সরকারের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির প্রয়োজন।
এক ঝলকে
- পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে ডিএ ও সপ্তম পে কমিশন নিয়ে বড় সিদ্ধান্তের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
- ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে রাজ্যে সপ্তম পে কমিশনের সুপারিশ কার্যকর করার আইনি সময়সীমা তৈরি হয়েছে।
- নতুন বেতন কাঠামোয় ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর বৃদ্ধির ফলে সরকারি কর্মচারীদের মূল বেতন প্রায় আড়াই থেকে তিন গুণ পর্যন্ত বাড়তে পারে।
- সঠিক নিয়মে পে কমিশন ও ডিএ চালু হলে কর্মীদের বেতন মাসে গড়ে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।