থমকে থাকা উন্নয়নে গতি! কেন্দ্রের হাতে রাজ্যের ৭টি জাতীয় সড়ক, বড় মাস্টারস্ট্রোক শুভেন্দুর

থমকে থাকা উন্নয়নে গতি! কেন্দ্রের হাতে রাজ্যের ৭টি জাতীয় সড়ক, বড় মাস্টারস্ট্রোক শুভেন্দুর

পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর থেকেই পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রশাসনিক সংস্কারে একের পর এক বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে নতুন সরকার। এবার রাজ্যের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আমূল বদলে দিতে এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দীর্ঘদিন ধরে ফাইলবন্দি হয়ে থাকা রাজ্যের ৭টি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সড়ককে অবশেষে কেন্দ্রীয় সংস্থা ‘ন্যাশনাল হাইওয়েজ অথরিটি অফ ইন্ডিয়া’ (NHAI) এবং ‘ন্যাশনাল হাইওয়েজ অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেড’ (NHIDCL)-এর হাতে তুলে দিল নবান্ন। এই মর্মে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই একটি আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে, যা রাজ্যের পরিকাঠামো উন্নয়নে একটি বড়সড় ‘মাস্টারস্ট্রোক’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

উন্নয়নের গতি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নতুন দিগন্ত

বিগত সরকারের আমলে কেন্দ্রীয় সড়ক মন্ত্রকের বারবার আবেদন সত্ত্বেও এই সড়কগুলির হস্তান্তর প্রক্রিয়া আটকে ছিল বলে অভিযোগ। এর ফলে থমকে ছিল রাস্তাগুলির সংস্কার ও সম্প্রসারণের কাজ। বর্তমান সরকারের এই গ্রিন সিগন্যালের ফলে এখন থেকে সড়কগুলির উন্নয়নমূলক কাজ সরাসরি কেন্দ্রীয় অর্থায়নে ও তদারকিতে দ্রুত গতিতে সম্পন্ন হবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে বিহার-পশ্চিমবঙ্গ সীমান্ত গাজোল রুট, ফরাক্কা রুট এবং শিলিগুড়ি-কার্শিয়াং-দার্জিলিং রুটের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক করিডরগুলির ভোলবদল হতে চলেছে।

একই সঙ্গে এই সড়ক হস্তান্তরের ফলে ভারতের প্রতিবেশী রাষ্ট্র এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলির সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের যোগাযোগ ব্যবস্থা এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। হাসিমারা-জয়গাঁও রুটের মাধ্যমে ভুটান, বারাদিঘি-চ্যাংরাবান্ধা ও বনগাঁ-বসিরহাট রুটের মাধ্যমে বাংলাদেশ এবং সেবক-কালিম্পং রুটের মাধ্যমে সিকিম সীমান্তের সংযোগকারী সড়কগুলির আধুনিকীকরণ সম্ভব হবে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বৃদ্ধির পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের পর্যটন শিল্পেও জোয়ার আসবে এবং মালদা ও মুর্শিদাবাদের মতো জেলাগুলির অর্থনৈতিক চিত্র বদলে যাবে।

এক ঝলকে

  • রাজ্যের পূর্ত দফতরের অধীনে থাকা ৭টি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সড়ককে কেন্দ্রীয় সংস্থা NHAI এবং NHIDCL-এর হাতে হস্তান্তর করল রাজ্য সরকার।
  • দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা এই ফাইল ছাড়পত্র পাওয়ায় বিহার-বাংলা করিডরসহ আন্তর্জাতিক সীমান্ত সড়কগুলির আধুনিকীকরণের পথ পরিষ্কার হলো।
  • এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশ, ভুটান এবং সিকিমের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও সুদৃঢ় ও উন্নত হবে।
  • উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, কালিম্পং এবং দক্ষিণবঙ্গের মালদা, মুর্শিদাবাদ ও উত্তর ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও পর্যটন ক্ষেত্রে গতি আসবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *