রণক্ষেত্র পার্ক সার্কাস! বুলডোজার ও নমাজ-নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে চরম উত্তেজনা, চলল ইটবৃষ্টি-লাঠিচার্জ

কলকাতার পার্ক সার্কাস সেভেন পয়েন্ট ক্রসিং এলাকায় অবৈধ নির্মাণ ভাঙতে বুলডোজার অভিযান এবং রাস্তার ওপর নমাজ পাঠে সরকারি নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে তীব্র বিক্ষোভ দেখালেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। রবিবার দুপুরের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় গোটা এলাকা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করতে হয়। বিক্ষোভকারীদের ছোঁড়া ইটের আঘাতে বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মী জখম হয়েছেন এবং পাল্টা লাঠিচার্জে আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারীও।
উত্তেজনার কারণ ও প্রশাসনের কড়া অবস্থান
রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন যে, জনসাধারণের যাতায়াতের রাস্তা আটকে কোনো ধর্মীয় জমায়েত বা নমাজ পাঠ করা যাবে না এবং মাইক-লাউডস্পিকার ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা থাকবে। এর পাশাপাশি রাজ্যজুড়ে শুরু হওয়া অবৈধ উচ্ছেদ ও বুলডোজার অভিযানের বিরুদ্ধেই মূলত রবিবার দুপুরে পার্ক সার্কাসে জমায়েত করেন স্থানীয়রা। বিক্ষোভকারীদের দাবি, এই ধরণের সিদ্ধান্ত তাঁদের ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করছে। অন্যদিকে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে যে, আইনশৃঙ্খলারক্ষা ও সাধারণ মানুষের যাতায়াত স্বাভাবিক রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ভবিষ্যৎ প্রভাব ও রাজনৈতিক আবহ
পার্ক সার্কাসের এই ঘটনা কলকাতার আইনশৃঙ্খলার ক্ষেত্রে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে, কারণ এর কিছুদিন আগেই রাজাবাজার এলাকাতেও একই ধরণের উত্তেজনা ছড়িয়েছিল। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, উচ্ছেদ অভিযান এবং ধর্মীয় জমায়েত বন্ধে সরকারের এই অনমনীয় অবস্থান আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক আবহকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে। তবে প্রশাসন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, বেআইনি দখলদারি ও রাস্তা অবরোধের বিরুদ্ধে আগামীতেও এই ধরণের কড়া আইনি পদক্ষেপ জারি থাকবে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও গোটা এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী ও র্যাফ মোতায়েন রাখা হয়েছে।
এক ঝলকে
- পার্ক সার্কাসে বুলডোজার অভিযান ও নমাজ পাঠের নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে স্থানীয়দের বিক্ষোভ ও রাস্তা অবরোধ।
- পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে পুলিশের ওপর ইটবৃষ্টি, পাল্টা লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস প্রয়োগ বাহিনীর।
- ঘটনায় পুলিশকর্মী ও বিক্ষোভকারীসহ বেশ কয়েকজন আহত, পরিস্থিতি সামলাতে নামানো হয়েছে র্যাফ ও সিআরপিএফ।
- রাজাবাজারের পর পার্ক সার্কাসের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলকাতার সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।