চাকরির ভুয়া ‘জয়েনিং লেটার’ দেখিয়ে ব্যাংক লোন! কাজে যোগ দিতে গিয়ে যুবকের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল!

চাকরির ভুয়ো নিয়োগপত্র দেখিয়ে ব্যাংক থেকে লাখ লাখ টাকার ঋণ নেওয়ার পর এক যুবকের সর্বস্বান্ত হওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। সরকারি চাকরি পাওয়ার আশায় প্রতারকদের পাতা ফাঁদে পা দিয়ে ওই যুবক নিজের অজান্তেই এক বিরাট জালিয়াতির শিকার হয়েছেন। উত্তরপ্রদেশের মুসাফিরখানা এলাকায় ঘটা এই ঘটনাটি বর্তমান সমাজে কর্মসংস্থানের নামে চলা ভয়াবহ প্রতারণা চক্রের একটি জ্বলন্ত উদাহরণ। এই ঘটনার পর ভুক্তভোগী যুবক পুলিশের দ্বারস্থ হলে পুরো বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
চাকরির টোপ ও ব্যাংকের ঋণ
ভুক্তভোগী ধর্মেন্দ্র কুমার যাদব নামের ওই যুবক ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে চাকরির খোঁজে এক পলিটেকনিক কলেজে গেলে অমিত দ্বিবেদী নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে তার পরিচয় হয়। অমিত নিজেকে একটি কলেজের কর্মকর্তা দাবি করে এবং ১০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে সহকারী শিক্ষক পদে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। ধর্মেন্দ্র প্রথমে টাকা দিতে রাজি না হওয়ায়, প্রতারক চক্রটি উত্তরপ্রদেশ জয়েন্ট এন্ট্রান্স এক্সামিনেশন কাউন্সিলের নামে একটি জাল নিয়োগপত্র, জয়েনিং লেটার এবং ভুয়ো বেতন শংসাপত্র তৈরি করে তার হাতে তুলে দেয়। এই নথিগুলোকে আসল ভেবে ধর্মেন্দ্র স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার একটি শাখা থেকে ১০ লক্ষ টাকার ব্যক্তিগত ঋণ নেন এবং ঋণের সিংহভাগ টাকা অমিতের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করে দেন।
যোগদানের দিনই মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল
টাকা দেওয়ার পর ধর্মেন্দ্র যখন নির্দিষ্ট কলেজে চাকরিতে যোগ দিতে যান, তখনই তার সামনে আসল সত্য উন্মোচিত হয়। কলেজ কর্তৃপক্ষ তাকে কাজে যোগ দিতে অস্বীকার করে এবং জানায় যে তার সমস্ত নথিপত্র সম্পূর্ণ জাল। দীর্ঘদিন ঘোরার পর ধর্মেন্দ্র তার টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্তরা তাকে মাত্র ১ লক্ষ ২৭ হাজার টাকা ফেরত দিয়ে বাকি টাকা দিতে অস্বীকার করে, এমনকি তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। এই ঘটনার পেছনে অমিত দ্বিবেদী সহ কলেজের অধ্যক্ষ ও পরিচালকের একটি সুসংগঠিত দল যুক্ত ছিল বলে জানা গেছে। যুবকের অভিযোগ ও ব্যাংকের লেনদেনের নথির ভিত্তিতে পুলিশ মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে।
এক ঝলকে
- সহকারী শিক্ষক পদের ভুয়ো নিয়োগপত্র দিয়ে এক যুবকের কাছ থেকে ১০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।
- বিশ্বাস অর্জনের জন্য প্রতারকরা সরকারি শিক্ষা কাউন্সিল ও কলেজের ভুয়ো জয়েনিং লেটার এবং স্যালারি সার্টিফিকেট তৈরি করেছিল।
- ওই জাল নথিপত্র দেখিয়ে ভুক্তভোগী যুবক স্টেট ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে প্রতারকদের টাকা পরিশোধ করেন।
- কলেজে কাজে যোগ দিতে গিয়ে যুবক জানতে পারেন তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন এবং এই ঘটনায় পুলিশ মামলা দায়ের করেছে।