‘রবীন্দ্রনাথ-নেতাজির মাটিতে বুলডোজার চলবে না’, হাওড়া-তিলজলার উচ্ছেদে গর্জে উঠলেন মমতা

হাওড়া স্টেশন চত্বরে ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযান এবং তিলজলা ও পার্ক সার্কাসে সৃষ্ট অশান্তির ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া একটি দীর্ঘ পোস্টে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, বাংলা কখনওই এই ‘বুলডোজার রাজনীতি’তে বিশ্বাস করে না। রাজনৈতিক অহংকারের চরম মূল্য সাধারণ গরিব মানুষকে চোকাতে হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি এই উচ্ছেদ অভিযানকে অত্যন্ত অমানবিক বলে বর্ণনা করেছেন।
রুজি-রুটি ও মর্যাদার ওপর আঘাত
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, রবীন্দ্রনাথ ও নেতাজির এই পুণ্যভূমিতে সাধারণ নাগরিকদের বিরুদ্ধে ভয় বা গায়ের জোর খাটিয়ে শাসন চালানো সম্ভব নয়। দিনমজুর, হকার ও ছোট ব্যবসায়ীরা যারা কঠোর পরিশ্রমে নিজেদের জীবন গড়ে তুলেছেন, রাতারাতি তাঁদের মাথার ওপর থেকে ছাদ কেড়ে নেওয়া এবং রুজি-রুটি বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। বর্তমান সরকারের এই পদক্ষেপকে তিনি বাংলার মানুষের মর্যাদার ওপর এক চরম আঘাত হিসেবে দেখছেন।
সস্তা প্রচার বনাম মানবিকতা
চলতি পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার মানুষের ভালোমন্দের চেয়ে সস্তা প্রচার বা ‘অপটিক্স’ নিয়ে বেশি ব্যস্ত রয়েছে। যে সরকার আগে ঘর ভেঙে দেয় এবং পরে মানুষের কথা শোনে, তারা আসলে বাংলার মূল ভাবাবেগটাকেই ভুলে গেছে। তিলজলা ও পার্ক সার্কাসের রাস্তায় সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ও অশান্তির আগুন আসলে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ারই বহিঃপ্রকাশ।
এক ঝলকে
- হাওড়া, তিলজলা ও পার্ক সার্কাসে সাম্প্রতিক উচ্ছেদ অভিযানের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
- সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি ও হকারদের দোকান ভাঙচুরকে তিনি ‘বুলডোজার রাজনীতি’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
- রবীন্দ্রনাথ ও নেতাজির মাটিতে ভয়ের শাসন চলবে না বলে বর্তমান সরকারকে সরাসরি আক্রমণ শানিয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।
- উচ্ছেদ অভিযানকে গরিব মানুষের রুজি-রুটি কেড়ে নেওয়ার এক অমানবিক ও সস্তা প্রচারের চেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।