“বুলডোজার কখনও প্রশাসনের ভাষা হতে পারে না!” হাওড়া-শিয়ালদায় উচ্ছেদের বিরুদ্ধে সরব মমতা

রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ‘বেআইনি নির্মাণ’ ভাঙতে হাওড়া ও শিয়ালদা স্টেশন চত্বরে ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযান চালাল প্রশাসন। শনিবার রাতে হাওড়া স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে প্রায় দেড়শোর বেশি দোকান। এর আগে শিয়ালদা স্টেশনের হকারদেরও একইভাবে উচ্ছেদ করা হয়। আচমকা এই উচ্ছেদ অভিযানের জেরে তিলজলা ও পার্ক সার্কাস এলাকায় তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন রুজি-রুটি হারানো সাধারণ মানুষ।
গরিবের পেটে লাথি, সরব প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী
রেল কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, রাজনৈতিক ঔদ্ধত্যের চরম মাশুল গুনতে হচ্ছে দিনমজুর, হকার ও ছোট দোকানদারদের। তাঁর মতে, ভয় দেখিয়ে বা বলপ্রয়োগ করে উচ্ছেদ অভিযান চালানো রবীন্দ্রনাথ এবং নেতাজির পুণ্যভূমির সংস্কৃতির পরিপন্থী। এই ঘটনাকে বাংলার মানুষের সম্মানের ওপর আঘাত বলে বর্ণনা করেছেন তিনি।
প্রশাসনের ভাষা ও মানবিকতার প্রশ্ন
উচ্ছেদ অভিযানের জেরে ঘরহারা ও কর্মহীন মানুষদের এই তীব্র হাহাকার বর্তমান সরকারের মানবিকতাহীনতাকেই তুলে ধরছে বলে দাবি করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, প্রকৃত উন্নয়ন দুর্বল নাগরিকদের সুরক্ষার ওপর নির্ভর করে, তাদের মুছে ফেলার ওপর নয়। পরিশেষে তিনি মনে করিয়ে দেন, যে সরকার আগে ঘর ভাঙে এবং পরে কথা শোনে, তারা বাংলার আবেগ বোঝে না। সংস্কৃতি, সহানুভূতি এবং শোষণের ঐতিহ্যে গড়ে ওঠা বাংলায় বুলডোজার কখনও প্রশাসনের ভাষা হতে পারে না।
এক ঝলকে
- হাওড়া ও শিয়ালদা স্টেশন চত্বরে বুলডোজার চালিয়ে হকার উচ্ছেদ করা হয়েছে।
- শনিবার রাতে হাওড়া স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় দেড়শোর বেশি বেআইনি দোকান গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
- এই উচ্ছেদ অভিযানের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে এক্স হ্যান্ডেলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
- আচমকা কাজ ও মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে পার্ক সার্কাস ও তিলজলায় ক্ষোভ দেখিয়েছেন সাধারণ মানুষ।