পশু জবাই গাইডলাইন নিয়ে সংঘাত! শুভেন্দুকে চিঠি অধীরের

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের জারি করা নতুন পশু জবাই সংক্রান্ত নির্দেশিকা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। এই গাইডলাইনের তীব্র বিরোধিতা করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তাঁর দাবি, রাজ্য সরকারের এই নতুন গাইডলাইন বা নির্দেশিকাটি বিশেষ করে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত মুর্শিদাবাদ জেলায় ব্যাপক বিভ্রান্তি ও অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি করেছে।
জনমানসে উদ্বেগ ও অধীরের প্রস্তাব
অধীর রঞ্জন চৌধুরী তাঁর চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, পশ্চিমবঙ্গে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও ভিন্ন ধর্মীয় বিশ্বাসসম্পন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ বাস করেন। প্রত্যেকেই নিজস্ব সামাজিক ও ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে চলেন। সরকারের এই নির্দেশিকা নির্দিষ্ট প্রথা মেনে চলা মানুষের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিনি জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে মুর্শিদাবাদের মতো স্পর্শকাতর এলাকায় নির্দিষ্ট স্থান চিহ্নিত করার প্রস্তাব দিয়েছেন, যেখানে সাধারণ মানুষ কোনও বাধা ছাড়াই প্রথাগত ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে পারবেন।
রাজ্যে বিজেপি পরিচালিত নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর পশু জবাইয়ের ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ম কার্যকর করেছে। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, যথাযথ সার্টিফিকেট ছাড়া কেউ পশু জবাই করতে পারবেন না এবং গরুর বয়স ন্যূনতম ১৪ বছর হওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই নিয়মের কারণে তৈরি হওয়া সামাজিক ও প্রশাসনিক অস্থিরতা দূর করতে এবং জনমনে স্বস্তি ফেরাতে কংগ্রেস নেতা সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এক ঝলকে
- পশু জবাই সংক্রান্ত নতুন সরকারি গাইডলাইন প্রত্যাহারের দাবিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে চিঠি দিলেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী।
- কংগ্রেস নেতার দাবি, এই নির্দেশিকা মুর্শিদাবাদের মতো সংখ্যালঘু অধ্যুষিত জেলাগুলোতে গভীর উদ্বেগ ও বিভ্রান্তি তৈরি করেছে।
- ধর্মীয় ও সামাজিক রীতিনীতি বজায় রাখতে জেলা প্রশাসনের অধীনে নির্দিষ্ট স্থান চিহ্নিতকরণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
- নতুন সরকারি নিয়মে সার্টিফিকেট ছাড়া পশু জবাই নিষিদ্ধ এবং গরুর বয়স ন্যূনতম ১৪ বছর হওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।