AI-এর গুণগান গাইতেই রেগে আগুন পড়ুয়ারা! গুগলের প্রাক্তন সিইও-কে মঞ্চেই চরম ট্রোলিং ও হুট্টিং

AI-এর গুণগান গাইতেই রেগে আগুন পড়ুয়ারা! গুগলের প্রাক্তন সিইও-কে মঞ্চেই চরম ট্রোলিং ও হুট্টিং

এআই নিয়ে সিলিকন ভ্যালির অতি-উৎসাহে তরুণ প্রজন্মের তীব্র ক্ষোভের প্রকাশ ঘটল খোদ মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে। একসময় প্রযুক্তি বিশ্বের যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তুমুল উদ্দীপনা দেখা যেত, এখন তা রূপ নিয়েছে চরম উদ্বেগ ও অবিশ্বাসে। সম্প্রতি অ্যারিজোনা ইউনিভার্সিটির স্নাতক সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখছিলেন গুগলের প্রাক্তন সিইও এরিক শ্মিড। কিন্তু তিনি যখনই আধুনিক প্রযুক্তি এবং সমাজে এআই-এর প্রভাব নিয়ে কথা বলা শুরু করেন, তখনই উপস্থিত শিক্ষার্থীরা সমস্বরে হুটোপুটি ও চিৎকার করে তাঁর বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা শুরু করেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ঘটনার ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পর প্রযুক্তি দুনিয়ায় নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

ভবিষ্যতের ক্যারিয়ার নিয়ে গভীর উদ্বেগ

এই প্রতিবাদের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে তরুণ প্রজন্মের চাকরি হারানোর গভীর ভয় ও অনিশ্চয়তা। যে শিক্ষার্থীরা আজ চ্যাটজিপিটি বা সোশ্যাল মিডিয়া অ্যালগরিদমের মতো প্রযুক্তির সঙ্গে বড় হয়েছে, তারাই এখন এআই-কে আর উৎপাদনশীলতার সাধারণ হাতিয়ার হিসেবে দেখছে না। বরং মিডিয়া, ডিজাইন, সফটওয়্যার ও কাস্টমার সাপোর্টের মতো ক্ষেত্রগুলোতে এআই-কে প্রাথমিক স্তরের কর্মসংস্থানের জন্য সরাসরি হুমকি মনে করছে তরুণরা। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের মনস্তত্ত্ব সাধারণত যেকোনো ধরনের ক্ষতি এড়াতে চায়। ফলে এআই-এর মাধ্যমে কাজ সহজ হওয়ার আনন্দের চেয়ে চাকরি হারানোর ভয় তরুণদের মধ্যে অনেক বেশি কাজ করছে।

মানবিক দক্ষতার ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একাংশের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কেবল সিস্টেমে আগে থেকে দেওয়া তথ্যের পুনরাবৃত্তি করতে পারে, নতুন কোনো মৌলিক ধারণা তৈরি করতে পারে না। ফলে টেক সংস্থাগুলোর আগ্রাসী প্রচার এখন তরুণদের আশ্বস্ত করার বদলে আরও বেশি বিভ্রান্ত ও শঙ্কিত করে তুলছে। শিক্ষাবিদদের মতে, শিক্ষার্থীরা আসলে প্রযুক্তির বিরোধী নয়, বরং যেভাবে তাদের ভবিষ্যৎকে গুরুত্ব না দিয়ে কেবল প্রযুক্তির বাণিজ্যিকীকরণ করা হচ্ছে, তারা সেই ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছে। খোদ এরিক শ্মিডও তাঁর বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের এই ভয়ের যৌক্তিকতা স্বীকার করে নিয়েছেন। অ্যারিজোনা ইউনিভার্সিটির আগে সেন্ট্রাল ফ্লোরিডা ইউনিভার্সিটিতেও একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছিল, যা প্রমাণ করে যে সিলিকন ভ্যালির ফাঁপা প্রতিশ্রুতির ওপর থেকে নতুন প্রজন্ম আস্থা হারাচ্ছে।

এক ঝলকে

  • অ্যারিজোনা ইউনিভার্সিটির সমাবর্তনে গুগলের প্রাক্তন সিইও এরিক শ্মিড এআই নিয়ে বক্তব্য দেওয়ায় শিক্ষার্থীদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে পড়েন।
  • চ্যাটজিপিটির যুগে বড় হওয়া তরুণ প্রজন্ম এআই-কে এখন আর সাধারণ প্রযুক্তির বদলে ক্যারিয়ারের জন্য সরাসরি বড় হুমকি হিসেবে দেখছে।
  • কর্মসংস্থান হারানোর ভয় ও টেক সংস্থাগুলোর আগ্রাসী প্রচারের কারণে তরুণদের মধ্যে এই অস্থিরতা ও ক্ষোভ ক্রমাগত বাড়ছে।
  • এর আগে সেন্ট্রাল ফ্লোরিডা ইউনিভার্সিটিতেও একই ধরনের প্রযুক্তি-বিরোধী হুটোটি ও বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *