টাকার রেকর্ড পতন: ইতিহাসে প্রথমবার ‘সেঞ্চুরি’র পথে ডলার, রক্তক্ষরণ দালাল স্ট্রিটেও!

টাকার রেকর্ড পতন: ইতিহাসে প্রথমবার ‘সেঞ্চুরি’র পথে ডলার, রক্তক্ষরণ দালাল স্ট্রিটেও!

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের চড়া দাম এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার জেরে ভারতীয় মুদ্রায় সর্বকালীন রেকর্ড পতন ঘটেছে। সোমবার সপ্তাহের শুরুতেই বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় টাকার মূল্য ইতিহাসের সবথেকে নিচে নেমে ৯৬.২৫-এ গিয়ে ঠেকেছে। গত শুক্রবারও টাকার মূল্যে বড়সড় ধস নেমেছিল এবং মার্কিন ডলারের বিপরীতে তা ৯৫.৮১ পয়সায় বন্ধ হয়েছিল। বাজার খোলার সময় ডলার প্রতি টাকার দাম ৯৬.১৯ থাকলেও সময়ের সঙ্গে তা আরও ৪৪ পয়সা পড়ে যায়, যা উদীয়মান বাজারের মুদ্রাগুলোর ওপর তৈরি হওয়া আন্তর্জাতিক চাপের বিষয়টি স্পষ্ট করে দিয়েছে।

টাকার পতন ও শেয়ার বাজারে ধস

মুদ্রাবাজারের এই ধাক্কা সরাসরি দেশের শেয়ার বাজারে এসে লেগেছে। টাকার ঐতিহাসিক পতনের জেরে সোমবার সকালের ট্রেডিংয়ে বড়সড় ধস নামে দালাল স্ট্রিটে। বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক সেনসেক্স প্রায় ৮৩৩.২০ পয়েন্ট পড়ে গিয়ে ৭৪,৪০৪.৭৯ অঙ্কে নেমে আসে এবং ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক নিফটি ২৩৪ পয়েন্ট হারিয়ে ২৩,৪০১.৭০ স্তরে লেনদেন শুরু করে। বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা গত শুক্রবারও বাজারে নিট ক্রেতা হিসেবে থাকলেও, সোমবারের আন্তর্জাতিক বাজারের নেতিবাচক হাওয়া ঘরোয়া শেয়ার সূচককে ধরে রাখতে পারেনি।

সংকট মোকাবিলায় সরকারি পদক্ষেপ ও আশার আলো

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক (আরবিআই) এবং সরকার ইতিমধ্যেই বেশ কিছু সক্রিয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আমদানি ব্যয় এবং ডলারের বহির্গমন কমাতে সোনা ও রূপার মতো মূল্যবান ধাতু আমদানির ওপর কাস্টমস ডিউটি বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে, যা কার্যকর শুল্ক হিসেবে ১৮ শতাংশের বেশি। পাশাপাশি রূপা আমদানির ওপর লাইসেন্সিং বিধিনিষেধও জারি করা হয়েছে। এই সংকটের মধ্যেও স্বস্তির খবর দিয়েছে রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া। শেষ হওয়া সপ্তাহে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৬.২৯৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বৃদ্ধি পেয়ে ৬৯৬.৯৮৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা বাজারে ডলারের জোগান স্বাভাবিক রাখতে এবং রুপির পতন আটকাতে ব্যবহার করা হতে পারে।

এক ঝলকে

  • মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় টাকার মূল্য সর্বকালীন রেকর্ড ভেঙে ৯৬.২৫-এ নেমে গেছে।
  • আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেলে ১১১ ডলার ছাড়ানো এবং ইরানের চলমান উত্তেজনাই এই পতনের মূল কারণ।
  • টাকার পতনের প্রভাবে সেনসেক্স ৮৩৩.২০ পয়েন্ট এবং নিফটি ২৩৪ পয়েন্ট হারিয়ে শেয়ার বাজারে বড় ধস নেমেছে।
  • পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সোনা ও রূপার আমদানি শুল্ক বাড়ানো হয়েছে এবং ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি পেয়ে ৬৯৬.৯৮৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *