সরকারি সংস্থা নয় ক্রিকেট বোর্ড, তথ্যের অধিকার আইন নিয়ে বড় রায় কেন্দ্রের

সরকারি সংস্থা নয় ক্রিকেট বোর্ড, তথ্যের অধিকার আইন নিয়ে বড় রায় কেন্দ্রের

দীর্ঘ আট বছরের টানাপোড়েন এবং আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে স্বস্তি পেল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। সোমবার কেন্দ্রীয় তথ্য কমিশন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছে যে, তথ্য জানার অধিকার (আরটিআই) আইনের পরিধিতে আনা যাবে না বিসিসিআই-কে। তথ্য কমিশনার পিআর রমেশ এই ঐতিহাসিক রায় দিয়ে স্পষ্ট করেছেন, বোর্ডের কোনো অপ্রকাশিত তথ্য সাধারণ মানুষের জানার আইনি অধিকার থাকছে না।

সরকারি নিয়ন্ত্রণের বাইরে স্বাধীন সত্তা

এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণ হিসেবে বিসিসিআই-এর স্বাধীন পরিকাঠামোকে উল্লেখ করেছে কমিশন। রায়ে জানানো হয়েছে, দেশের ক্রিকেট বোর্ড কোনো সংসদীয় আইন বা সরকারি নির্দেশে তৈরি হয়নি। এটি সম্পূর্ণ একটি স্বাধীন সংস্থা, যার নিজস্ব আর্থিক পরিকাঠামো রয়েছে। যেহেতু সরকারের পক্ষ থেকে বোর্ডকে কোনো আর্থিক সাহায্য দেওয়া হয় না এবং এর অভ্যন্তরীণ কার্যকলাপেও সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই, তাই একে সরকারি সংস্থা হিসেবে গণ্য করা যাবে না।

আইনি জটিলতার সূত্রপাত ও প্রভাব

মামলাটির সূত্রপাত হয়েছিল ২০১৮ সালে, যখন তৎকালীন তথ্য কমিশনার এম শ্রীধর আচারিয়ুলু বিসিসিআই-কে আরটিআই আইনের ধারা ২ (এইচ) অনুযায়ী সরকারি সংস্থা হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে মাদ্রাজ হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় বোর্ড। পরবর্তীতে উচ্চ আদালত মামলাটি পুনরায় খতিয়ে দেখার জন্য জাতীয় তথ্য কমিশনে পাঠায়। বর্তমান এই রায়ের ফলে বোর্ডের স্বায়ত্তশাসন যেমন বজায় থাকল, তেমনই ক্রিকেটপ্রেমী ও সাধারণ মানুষের জন্য বোর্ডের ভেতরের প্রশাসনিক ও আর্থিক খবরাখবর জানার পথ বন্ধ হয়ে গেল।

এক ঝলকে

  • দীর্ঘ আট বছর ধরে চলা মামলার নিষ্পত্তি ঘটিয়ে বিসিসিআই-কে আরটিআই আইনের আওতার বাইরে রাখল কেন্দ্রীয় তথ্য কমিশন।
  • ক্রিকেট বোর্ড কোনো সরকারি অনুদান পায় না এবং এটি কোনো সংসদীয় আইনে তৈরি হয়নি বলেই এই সিদ্ধান্ত।
  • ২০১৮ সালে তথ্য কমিশনের দেওয়া পূর্ববর্তী একটি রায়কে খারিজ করে বোর্ডের স্বাধীন সত্তাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
  • এই রায়ের ফলে বিসিসিআই-এর অভ্যন্তরীণ বা অপ্রকাশিত কোনো তথ্য সাধারণ মানুষের জানার আইনি সুযোগ আর থাকছে না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *