ভুল হলেই আটকে যাবে যুবশক্তির টাকা, আবেদন করার আগে জরুরি শর্তগুলি জেনেছেন তো!

পশ্চিমবঙ্গের বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য বড়সড় সুখবর নিয়ে এসেছে রাজ্য সরকার। আগামী ১ জুন থেকে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে আসতে চলেছে ‘যুবশক্তি ভরসা কার্ড’-এর টাকা। রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর এই ভাতা প্রকল্পের তোড়জোড় ব্যাপক গতি পেয়েছে। আগে এই প্রকল্পের আওতায় প্রতি মাসে ১,৫০০ টাকা দেওয়া হলেও বর্তমান সরকারের আমলে ভাতার পরিমাণ দ্বিগুণ করে ৩,০০০ টাকা করা হয়েছে। ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার বা ডিবিটি (DBT) ব্যবস্থার মাধ্যমে সরাসরি প্রাপকদের অ্যাকাউন্টে এই অর্থ পাঠানো হবে। চাকরির পরীক্ষা এবং ইন্টারভিউ দিচ্ছেন এমন বেকার তরুণ-তরুণীদের পাশে দাঁড়াতেই সরকারের এই বিশেষ উদ্যোগ।
কারা পাবেন এই সুবিধা
এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে হলে আবেদনকারীকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। যুবশক্তি ভরসা কার্ডের জন্য বয়সসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে ন্যূনতম মাধ্যমিক পাশ হতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুরোনো উপভোক্তাদের পাশাপাশি নতুনরাও এই স্কিমের জন্য অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন। মন্ত্রিসভার বৈঠকে ইতিমধ্যেই এই সিদ্ধান্তে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় নথি ও সতর্কতা
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, সমগ্র প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন করা হবে। কারিগরি ত্রুটি বা ভেরিফিকেশনে কোনো রকম অসঙ্গতি থাকলে আবেদন বাতিল হতে পারে। তাই আবেদনের সময় নির্দিষ্ট কিছু নথিপত্র থাকা বাধ্যতামূলক। আবেদনকারীর কাছে বৈধ ভোটার কার্ড, বয়সের প্রমাণপত্র হিসেবে বার্থ সার্টিফিকেট বা মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড, শিক্ষাগত যোগ্যতার মার্কশিট, সাম্প্রতিক তোলা পাসপোর্ট সাইজের পরিষ্কার ছবি এবং একটি সচল মোবাইল নম্বর থাকতে হবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আবেদনকারীর নিজস্ব একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে এবং সেই অ্যাকাউন্টটির সঙ্গে আধার কার্ডের লিঙ্ক থাকা বাধ্যতামূলক। এই নিয়মগুলি সঠিকভাবে না মানলে বা নথিতে ভুল থাকলে অ্যাকাউন্টে টাকা আসার প্রক্রিয়া আটকে যেতে পারে। মূলত প্রকৃত যোগ্য ও অভাবী চাকরিপ্রার্থীরা যাতে এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করতেই ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া কঠোর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।