সীমান্ত সংঘাতের আবহ পেরিয়ে কি এবার বরফ গলছে ভারত ও চিনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে?

সীমান্ত সংঘাতের আবহ পেরিয়ে কি এবার বরফ গলছে ভারত ও চিনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে?

বেজিংয়ে চিনের বিদেশ মন্ত্রকের উচ্চপদস্থ আধিকারিক লিউ জিনসং-এর সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হলেন চিনে নিযুক্ত নতুন ভারতীয় রাষ্ট্রদূত বিক্রম দোরাইস্বামী। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন, আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং ব্রিকস (BRICS) জোটের অধীনে সহযোগিতা বৃদ্ধি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। সম্প্রতি চিনের সহকারী বিদেশমন্ত্রীর কাছে পরিচয়পত্র পেশ করার পর, চিনা আধিকারিকদের সঙ্গে এটিই ভারতীয় রাষ্ট্রদূতের প্রথম আনুষ্ঠানিক পরিচিতি বৈঠক। কূটনৈতিক মহলের মতে, দীর্ঘদিনের শীতলতা কাটিয়ে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে নতুন করে স্থিতিশীল সম্পর্ক গড়ে তোলার লক্ষ্যে এটি একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ।

কূটনৈতিক স্তরে যোগাযোগ বৃদ্ধি ও ব্রিকস সহযোগিতা

সোমবার বেজিংয়ে ভারতীয় দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পাশাপাশি দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং ব্রিকস কাঠামোর অধীনে সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রেখে একটি ‘স্থিতিশীল, অনুমানযোগ্য এবং পারস্পরিক লাভজনক’ সম্পর্ক গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছেন উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা। এর আগে, নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস বিদেশমন্ত্রীদের সফল বৈঠকের জন্য ভারতকে চিনের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানানো হয়। আন্তর্জাতিক মঞ্চে জটিল বিশ্ব পরিস্থিতির মোকাবিলায় ব্রিকস সদস্য দেশগুলির মধ্যে একতা ও সহযোগিতা বাড়াতে চিন যে প্রস্তুত, সেই বার্তাও স্পষ্ট করা হয়েছে।

সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং ভবিষ্যৎ প্রভাব

গত কয়েক বছরে সীমান্ত বিতর্ক এবং আঞ্চলিক আধিপত্যকে কেন্দ্র করে ভারত ও চিনের মধ্যে এক ধরনের অনাস্থার পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে শাকসগাম উপত্যকার মতো কৌশলগত অঞ্চল নিয়ে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে টানাপোড়েন শুরু হয়। এছাড়া, রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা নিয়ে আমেরিকার চাপও দুই দেশের ওপর রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে বেজিংয়ের এই বৈঠকটি অত্যন্ত সময়োপযোগী।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আলোচনার ফলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা পুনরুজ্জীবিত হতে পারে। এশিয়ার দুটি বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় থাকলে তা সামগ্রিকভাবে দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে। চিন আগামী বছর ব্রিকস-এর সভাপতিত্ব গ্রহণ করতে চলেছে, তার আগে ভারতের সঙ্গে এই সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা বহুপাক্ষিক বিশ্বমঞ্চে দুই দেশের অবস্থানকে আরও সুসংহত করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *