ভেঙে গেল আইনি রক্ষাকবচ, আরজি কর দুর্নীতিতে সন্দীপ ঘোষের বিচার শুরুর চূড়ান্ত ছাড়পত্র শুভেন্দু সরকারের

আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অভূতপূর্ব আর্থিক দুর্নীতি মামলায় এবার কাটল সবচেয়ে বড় আইনি জট। প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে আদালতে আনুষ্ঠানিক বিচার প্রক্রিয়া বা ‘প্রসিকিউশন স্যাঙ্কশন’ শুরু করার চূড়ান্ত অনুমোদন দিল রাজভবন ও রাজ্যের বর্তমান শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। এই প্রশাসনিক সবুজ সংকেতের ফলে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই এবং ইডির সামনে সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে আদালতে পূর্ণাঙ্গ ট্রায়াল শুরু করার ক্ষেত্রে আর কোনো আইনি বাধা রইল না। রাজ্যের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতরের জারি করা এই সরকারি নির্দেশিকার কপি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
ভেঙে পড়ল আমলাতান্ত্রিক প্রাচীর
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্তকে রাজ্যের প্রশাসনিক অবস্থানের এক বড়সড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। বর্তমান শাসক শিবিরের অভিযোগ, পূর্বতন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে চার্জশিট গঠন বা আদালতে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আটকে রাখা হয়েছিল। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে এতদিন প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট বা পিএমএলএ-র অধীনে আর্থিক তছরুপের মামলায় তদন্তের গতি বাড়াতে পারছিল না ইডি। অবশেষে সুপ্রিম কোর্ট ও হাই কোর্টের আইনি প্রক্রিয়ার মাঝে, রাজ্য প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তর এবং রাজভবনের সম্মতিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের অধীনে সন্দীপের বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়ায় আইনি সিলমোহর দেওয়া হলো।
আর্থিক অপরাধের স্পষ্ট প্রমাণ
সরকারি নির্দেশিকায় স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে যে, কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের জমা দেওয়া কেস ডায়েরি, এফআইআর এবং যাবতীয় তথ্য-প্রমাণ পুঙ্খানুপুঙ্খ খতিয়ে দেখার পরেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য দফতরের আদেশ অনুযায়ী, আরজি কর হাসপাতালের দায়িত্বে থাকাকালীন সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও সচেতনভাবে আর্থিক অপরাধের স্পষ্ট প্রাথমিক প্রমাণ বা ‘প্রাইমা ফেসি এভিডেন্স’ পাওয়া গেছে। ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে আরজি করের ট্রেনি চিকিৎসককে নৃশংস ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার পর কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে এই আর্থিক দুর্নীতির তদন্ত শুরু হয়েছিল। মা তারা ট্রেডার্স, ঈশান ক্যাফে এবং খামা লোহা-র মতো একাধিক বেসরকারি সংস্থাকে বেআইনিভাবে হাসপাতালের বিভিন্ন কাজের বরাত পাইয়ে দেওয়া এবং সরকারি তহবিল ও হাসপাতালের চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যক্তিগত স্বার্থে অপব্যবহার করার বিস্তারিত ট্রেইল খুঁজে পেয়েছে ইডি। এই ত্বরিত ছাড়পত্রের ফলে আরজি কর কাণ্ডে জবাবদিহিতার যে দাবি আমজনতা তুলেছিল, তা আইনি পথে একধাপ এগোল এবং সন্দীপ ঘোষের কঠোর শাস্তির প্রক্রিয়া আরও ত্বরান্বিত হবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।