ভবানীপুরে মমতার হারের জের, বোরো চেয়ারপার্সনের পদ থেকে ইস্তফা দিলেন দেবলীনা বিশ্বাস!

কলকাতা পুরসভার ৯ নম্বর বোরোর চেয়ারপার্সনের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন তৃণমূলের দেবলীনা বিশ্বাস। সোমবার তাঁর এই পদত্যাগপত্র প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে জোর আলোড়ন শুরু হয়েছে। ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরাজয়ের ঠিক পরেই এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। নিজের এলাকার নির্বাচনী ব্যর্থতার জেরেই তিনি এই প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নৈতিক দায় নাকি শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশ
কলকাতা পুরসভার ৭৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তথা বোরো ৯-এর চেয়ারপার্সন দেবলীনা বিশ্বাস পুরসভার চেয়ারপার্সন মালা রায়ের উদ্দেশে তাঁর হাতে লেখা পদত্যাগপত্রটি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেছেন, বোরো কমিটির চেয়ারপার্সনের পদ থেকে ইস্তফা দিলেও সাধারণ কাউন্সিলর হিসেবে তিনি নিজের এলাকায় কাজ চালিয়ে যাবেন। সম্প্রতি ঘোষিত বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে ভবানীপুর কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৫,১০৫ ভোটে পরাজিত হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলীয় সূত্রের খবর, এই ভরাডুবির নৈতিক দায় স্বীকার করেই দেবলীনা পদ ছেড়েছেন। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশেই এই পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছেন তিনি।
ভোটের ফলাফলের প্রভাব
ভবানীপুর বিধানসভা এলাকার অন্তর্গত কলকাতা পুরসভার ৭১, ৭৩, ৭৪, ৭৭ এবং ৮২ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যে চারটিতেই তৃণমূল কংগ্রেস অনেকটাই পিছিয়ে পড়ে। বিশেষ করে দেবলীনা বিশ্বাসের দায়িত্বে থাকা বোরো ৯ এলাকার একাধিক বুথে বিজেপি উল্লেখযোগ্য লিড পায়। এই সাংগঠনিক ব্যর্থতা ও পরাজয়ের ধাক্কা সামলাতেই প্রশাসনিক পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন দেবলীনা। যদিও এই বিষয়ে তিনি প্রকাশ্যে এখনও বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করেননি। তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলানোর চেয়ে এই মুহূর্তে দলের সংগঠনকে নতুন করে শক্তিশালী করা প্রয়োজন মনে করেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই পদত্যাগের ফলে আগামী দিনে কলকাতা পুরসভার অন্দরে ও তৃণমূলের অ্যন্তরীণ সংগঠনে বড়সড় রদবদলের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।