স্রেফ আইপিএল নয়, প্রয়োজন মানসিক দৃঢ়তা ও তিন ফরম্যাটের প্রস্তুতি, নিজের লড়াইয়ের গল্প শোনালেন কোহলি

ক্রিকেটের আধুনিক রূপান্তর এবং আইপিএলের রমরমার যুগে তরুণ ক্রিকেটারদের মানসিকতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক বিরাট কোহলি। একই সঙ্গে ক্যারিয়ারের এক চরম মুহূর্তে তিনি কীভাবে ‘ইমপস্টার সিনড্রোম’ নামক মানসিক সমস্যায় ভুগেছিলেন এবং কেন অধিনায়কত্ব ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন, সেই অজানা অধ্যায়ও উন্মোচন করেছেন। তাঁর মতে, স্রেফ কুড়ি ওভারের ধুন্ধুমার ক্রিকেট খেলে সাময়িক অর্থ ও যশ পাওয়া সহজ হলেও, দীর্ঘস্থায়ী সাফল্যের জন্য তিন ফরম্যাটের ক্রিকেট খেলার মানসিকতা ও শৃঙ্খলা থাকা জরুরি।
আইপিএল সংস্কৃতির হাতছানি ও তরুণদের জন্য পরামর্শ
বর্তমানে তরুণ ক্রিকেটারদের মধ্যে আইপিএল খেলে দ্রুত অর্থ ও স্বীকৃতি পাওয়ার যে প্রবণতা তৈরি হয়েছে, তাকে বড় চিন্তা হিসেবে দেখছেন কোহলি। ২০ বলে ৪০-৫০ রান করলেই যেখানে বিপুল খ্যাতি চলে আসে, সেখানে তরুণদের মধ্যে দ্রুত সন্তুষ্ট হয়ে যাওয়ার মানসিকতা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে ক্যারিয়ারের শুরুতেই লক্ষ্য স্থির করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, দ্রুত প্রচারের আলোয় হারিয়ে না গিয়ে যারা দীর্ঘ ১৫-২০ বছর ক্রিকেটবিশ্বে রাজত্ব করতে চায়, তাদের কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। আধুনিক ব্যাটারদের মারকুটে ঘরানার প্রশংসা করলেও কোহলি মনে করিয়ে দেন, টুর্নামেন্টের শেষদিকে যখন পিচ কঠিন হয়ে যায়, তখন স্রেফ বড় শট নয়, বরং বুদ্ধি খাটিয়ে ও দৌড়ে রান নিয়ে ম্যাচ জেতানোর দক্ষতা থাকা জরুরি।
মানসিক ক্লান্তি ও অধিনায়কত্ব ছাড়ার নেপথ্য কারণ
দীর্ঘদিন ধরে তিন ফরম্যাটে এক টানা নেতৃত্ব এবং দলের ব্যাটিংয়ের মূল ভরসা থাকার চাপ কীভাবে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে প্রভাব ফেলেছিল, তা অকপটে স্বীকার করেছেন কোহলি। ভারতীয় ক্রিকেটকে শীর্ষে নিয়ে যাওয়ার তাড়নায় তিনি নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে নজর দেওয়ার সময় পাননি। কোহলির ভাষায়, অধিনায়কত্ব ছাড়ার সময়ে তাঁর ভেতরে আর কোনো শক্তি অবশিষ্ট ছিল না। একদিকে নিজের পারফরম্যান্সের চাপ, অন্যদিকে দলের জয়-পরাজয়ের চুলচেরা বিশ্লেষণ—এই দ্বিমুখী চাপ সামলাতে সামলাতে তিনি সম্পূর্ণ হাঁফিয়ে উঠেছিলেন।
এই মানসিক ক্লান্তির সূত্র ধরেই কোহলি জানান, তিনি ‘ইমপস্টার সিনড্রোম’-এর শিকার হয়েছিলেন, যেখানে একজন সফল মানুষও প্রতিনিয়ত নিজের দক্ষতা নিয়ে সংশয়ে ভোগেন। আজও নেটে অনুশীলনের সময় তরুণদের মূল্যায়নের ভয় তাঁর মনে কাজ করে। তবে এই কঠিন মানসিক পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠে ক্রিকেটের আনন্দ ফিরে পাওয়ার পেছনে রাহুল দ্রাবিড় এবং বিক্রম রাঠোরের মতো অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্বদের সহযোগিতার কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেছেন কোহলি।