পাহাড়ে ফিরছে পঞ্চায়েত ব্যবস্থা, ‘বুলডোজার’ ইস্যুতে মমতাকে তীব্র কটাক্ষ দিলীপ ঘোষের

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন ও পাহাড়ে পঞ্চায়েত ব্যবস্থা চালু করাকে কেন্দ্র করে নতুন করে পারদ চড়তে শুরু করেছে। রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ স্পষ্ট জানিয়েছেন, বর্তমান সরকার উত্তরবঙ্গের পরিকাঠামো ও সামগ্রিক উন্নয়নে বিশেষ জোর দিচ্ছে। একই সঙ্গে, বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেসের ‘বুলডোজার সংস্কৃতি’ বিরোধী আন্দোলনকে তীব্র ভাষায় নিশানা করেছেন তিনি। সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ দ্রুত বদলাতে শুরু করেছে।
উন্নয়নের লক্ষ্যে পাহাড়ে পঞ্চায়েত
দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ের স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন ও উন্নয়ন নিয়ে নানা জটিলতা তৈরি হয়েছিল। সেই অচলাবস্থা কাটিয়ে এবার পাহাড়ে ত্রিস্তর পঞ্চায়েত ব্যবস্থা চালু করার বড় ঘোষণা দিয়েছে নতুন রাজ্য সরকার। মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন, আগের সরকার উত্তরবঙ্গের সাধারণ মানুষের চাহিদা পূরণ ও পরিকাঠামো উন্নয়নে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছিল। পাহাড়ের মানুষকে মূল স্রোতের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক অধিকারের সাথে যুক্ত করতেই এই পঞ্চায়েত ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতির পুনরুজ্জীবনে বড় প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।
তৃণমূলের বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক সংঘাত
অন্যদিকে, রাজ্যে হকার উচ্ছেদ ও ‘বুলডোজার সংস্কৃতি’র অভিযোগ তুলে শাসক শিবিরের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকা যেমন হাওড়া, শিয়ালদহ এবং বালিগঞ্জে আগামী ২১ মে বড়সড় বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে তারা। তৃণমূলের অভিযোগ, নতুন সরকারের আমলে হকার এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে বেছে বেছে নিশানা করা হচ্ছে।
এই বিক্ষোভ কর্মসূচিকে পাল্টা কটাক্ষ করে দিলীপ ঘোষ বলেন, মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের মানুষের দুর্দশা নিয়ে সম্পূর্ণ উদাসীন ছিলেন। ক্ষমতায় থাকতে যে বিষয়গুলো নিয়ে তিনি মাথা ঘামাননি, এখন বিরোধী আসনে বসে তা নিয়ে রাজনীতি করছেন। নির্বাচনের পর এই প্রথম দুই শিবিরের এমন মুখোমুখি অবস্থান রাজ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।