ফ্ল্যাট বিতর্কে এবার আইনি লড়াইয়ের কড়া হুঁশিয়ারি সায়নীর!

ফ্ল্যাট বিতর্কে এবার আইনি লড়াইয়ের কড়া হুঁশিয়ারি সায়নীর!

ভোট মেটার পরেও রাজ্য রাজনীতিতে স্বস্তির পরিবেশ নেই। এবার তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং যাদবপুরের তৃণমূল সাংসদ সায়নী ঘোষের যৌথ মালিকানায় একটি ফ্ল্যাট রয়েছে বলে সমাজমাধ্যমে তীব্র শোরগোল পড়ে গেছে। দাবি করা হচ্ছিল, কলকাতার দমদম সংলগ্ন ১৯ ডি সেভেন ট্যাঙ্কস রোডে এই দুই হেভিওয়েট নেতার নামে একটি যৌথ সম্পত্তি রয়েছে। কলকাতা পুরসভার (কেএমসি) একটি মিউটেশন নোটিসকে হাতিয়ার করে এই খবর ছড়ানো হচ্ছিল বলে জানা গেছে। তবে এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ভুয়ো বলে উড়িয়ে দিয়ে এবার সরাসরি আইনি লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সাংসদ সায়নী ঘোষ।

নাম বিভ্রাটের জের ও সায়নীর কড়া জবাব

সম্পত্তি নিয়ে তৈরি হওয়া এই বিতর্কের জল গড়াতেই সমাজমাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন সায়নী ঘোষ। নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে এক পোস্টে তিনি স্পষ্ট জানান, ওই সম্পত্তির সঙ্গে তাঁর দূর-দূরান্ত পর্যন্ত কোনো সম্পর্ক নেই। ভাইরাল হওয়া ফরওয়ার্ড মেসেজের সত্যতা খারিজ করে তিনি লেখেন, ১৯ ডি সেভেন ট্যাঙ্কস রোডের ওই সম্পত্তিতে সায়নী ঘোষ হিসেবে যাঁর নাম রয়েছে, তিনি নিশ্চিতভাবেই এই সায়নী ঘোষ নন। নিজেকে অত্যন্ত সাধারণ ব্যাকগ্রাউন্ডের মানুষ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, রাজনীতি করে আজ পর্যন্ত কোনো উপরি বা অপ্রত্যাশিত লাভ তিনি নেননি।

বিরোধীদের কটাক্ষ করে যাদবপুরের সাংসদ মনে করিয়ে দিয়েছেন, তাঁর সমস্ত সম্পত্তির খতিয়ান নির্বাচন কমিশনের কাছে দেওয়া হলফনামায় স্পষ্ট উল্লেখ করা আছে। ভোটার ও সাধারণ মানুষকে যেকোনো বিভ্রান্তি এড়াতে সেই নির্বাচনী রেকর্ড চেক করার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।

আইনি পদক্ষেপ ও রাজনৈতিক প্রভাব

বিনা প্রমাণে ভাবমূর্তি কালিমালিপ্ত করার এই চেষ্টার বিরুদ্ধে এক ইঞ্চি জমি ছাড়তেও নারাজ তৃণমূলের এই তারকা নেত্রী। ভুয়ো খবর ছড়ানোর অভিযোগে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি সাফ জানিয়েছেন, এই ‘ঘোষ’কে ভয় দেখিয়ে চুপ করানো যাবে না। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য’ কবিতার পঙ্ক্তি উদ্ধৃত করে তিনি নিজের অনড় অবস্থানের কথা জানান।

রাজনৈতিক মহলের মতে, নাম বিভ্রাটের জেরে পুরসভার কোনো নথিকে হাতিয়ার করে শাসক দলকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করছিল বিরোধী শিবির। কিন্তু জল বেশিদূর গড়ানোর আগেই সমাজমাধ্যমে সায়নী ঘোষ ফ্রন্টফুটে এসে কড়া জবাব দেওয়ায় বিরোধীদের সেই প্রচেষ্টা ধাক্কা খেল। এই ঘটনার জেরে আগামী দিনে ভুয়ো খবর ছড়ানোর বিরুদ্ধে আইনি আইনি লড়াই যেমন তীব্র হতে পারে, তেমনই রাজ্য রাজনীতিতে শাসক-বিরোধী চাপানউতোর আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *