বেকারত্ব দূরীকরণে বড় পদক্ষেপ, জুনের শুরুতেই যুবকদের অ্যাকাউন্টে ঢুকবে তিন হাজার টাকা!

বেকারত্ব দূরীকরণে বড় পদক্ষেপ, জুনের শুরুতেই যুবকদের অ্যাকাউন্টে ঢুকবে তিন হাজার টাকা!

রাজ্যের বেকার তরুণ-তরুণীদের স্বাবলম্বী করতে এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতিতে আর্থিক সহায়তার লক্ষ্যে এক বড় ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। আগামী ১ জুন থেকেই শুরু হতে চলেছে ‘যুব শক্তি ভরসা কার্ড’ যোজনার অধীনে প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদান। ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার বা ডিবিটি (DBT) প্রযুক্তির মাধ্যমে এই অর্থ সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে। নবগঠিত সরকারের এই জনকল্যাণমুখী উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো, চাকরিপ্রার্থীরা যতদিন না কোনো কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছেন, ততদিন তাঁদের পাশে থেকে আর্থিক মনোবল জোগানো। পূর্ববর্তী সরকারের আমলের ১,৫০০ টাকার বেকার ভাতাকে দ্বিগুণ বাড়িয়ে বর্তমান সরকার ৩,০০০ টাকা করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এই বিশাল কর্মযজ্ঞে যাতে কোনো ধরনের প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা জালিয়াতি না হয়, তার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর ভেরিফিকেশন বা স্ক্রুটিনির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। নবান্ন সূত্রে স্পষ্ট করা হয়েছে, কোনো ভুয়ো আবেদনকারী যাতে এই প্রকল্পের অনৈতিক সুবিধা নিতে না পারে এবং প্রকৃত যোগ্য চাকরিপ্রার্থীরা যাতে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করতেই এই কঠোর পদক্ষেপ।

আবেদনের যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র

এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে গেলে আবেদনকারীকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। যুবকদের বয়স হতে হবে ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে এবং ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে মাধ্যমিক পাশ করা বাধ্যতামূলক। এছাড়া উপভোক্তার নিজস্ব একটি সচল ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে।

আবেদনের সময় চাকরিপ্রার্থীদের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সঙ্গে রাখতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে ভোটার আইডি কার্ড, বয়স প্রমাণের জন্য বার্থ সার্টিফিকেট বা মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড, শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট ও মার্কশিট, সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজ ছবি এবং একটি সচল মোবাইল নম্বর। এর পাশাপাশি আবেদনকারীর পরিচয় যাচাইয়ের জন্য একটি নির্দিষ্ট সরকারি পরিচয়পত্র হিসেবে আধার কার্ডের প্রয়োজন হবে এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টটি উক্ত পরিচয়পত্রের সাথে লিঙ্ক করা থাকতে হবে।

প্রক্রিয়া সহজীকরণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

প্রকল্পের পুরো প্রক্রিয়াটি গতিশীল করতে রাজ্য মন্ত্রিসভা ইতিমধ্যেই একটি নির্দিষ্ট অনলাইন পোর্টাল চালুর অনুমোদন দিয়েছে। নতুন আবেদনকারীরা খুব সহজেই এই পোর্টালে গিয়ে নিজেদের নাম নথিভুক্ত করতে পারবেন। ইতিবাচক বিষয় হলো, যাঁরা আগে থেকেই এই ধরনের বেকার ভাতার সুবিধা পাচ্ছিলেন, তাঁদের নতুন করে জটিল প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে না; তাঁরা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই এই নতুন তালিকার অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবেন।

অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যের লাখো বেকার যুবকের উপর থেকে যাতায়াত, বইপত্র কেনা ও ইন্টারভিউয়ের খরচ সংক্রান্ত মানসিক চাপ অনেকটাই কমবে। বর্ধিত এই আর্থিক সাহায্য গ্রামীণ ও শহরের প্রান্তিক যুবসমাজের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে, যা পরোক্ষভাবে রাজ্যের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি সচল রাখতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ১ জুন থেকে সরাসরি টাকা দেওয়া শুরু হওয়ার ঘোষণায় স্বাভাবিকভাবেই খুশি রাজ্যের চাকরিপ্রার্থী মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *