অভিষেকের ২৪ সম্পত্তি সহ চার হেভিওয়েটের বিস্ফোরক তালিকা প্রকাশ করে শুভেন্দুর চরম হুঁশিয়ারি

পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনের পর থেকেই তীব্র আক্রমণাত্মক মেজাজে ধরা দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এবার তাঁর সরাসরি নিশানায় রাজ্যের চার হেভিওয়েট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, যাঁদের মধ্যে অন্যতম তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রকাশ্য জনসভা থেকে এই চার নেতার বিপুল সম্পত্তির খতিয়ান তুলে ধরে তাঁদের জেলে পাঠানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সাধারণ মানুষের টাকা লুণ্ঠনকারীদের কোনোভাবেই রেয়াত করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।
পুরসভা ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য
মুখ্যমন্ত্রী পদে বসার পরেই শুভেন্দু অধিকারী পুরনগরোন্নয়ন দপ্তরের সচিব এবং কলকাতা পুরসভার কমিশনারকে চার প্রভাবশালী ব্যক্তির সম্পত্তির খতিয়ান বের করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই জানা গেছে, ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মোট ২৪টি সম্পত্তি রয়েছে। এর মধ্যে ১৪টি সম্পত্তি তাঁর সংস্থা ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর নামে, ৪টি স্বয়ং অভিষেকের নামে এবং বাকি ৬টি তাঁর বাবার নামে নথিভুক্ত।
অভিষেক ছাড়াও এই তালিকায় রয়েছেন আরও তিন প্রভাবশালী। রিপোর্টে দেখা গেছে, বেলেঘাটার রাজু নস্করের ১৮টি এবং কসবায় তৃণমূলের প্রভাবশালী মুখ সোনা পাপ্পুর ২৪টি সম্পত্তি রয়েছে। তবে সবাইকে টেক্কা দিয়েছেন কসবার তৃণমূল বিধায়ক জাভেদ আহমেদের পুত্র, যাঁর একার নামেই ৯০টি সম্পত্তির হদিশ মিলেছে। প্রাক্তন মন্ত্রী বা দুর্নীতিগ্রস্ত পুলিশ আধিকারিকদের মতো এই রাঘববোয়ালদেরও দ্রুত গারদের পেছনে পাঠানো হবে বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
তীব্র আইনি ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন
মুখ্যমন্ত্রীর এই বিস্ফোরক বার্তার পরপরই সোমবার রাতে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) কসবার বিতর্কিত তৃণমূল নেতা সোনা পাপ্পু ওরফে বিশ্বজিৎ পোদ্দারকে গ্রেপ্তার করেছে। অন্যদিকে, রাজু নস্করও সম্পত্তি বিবাদের জেরে অপহরণের অভিযোগে আগে থেকেই পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। এই সাঁড়াশি চাপের মুখে আইনি রক্ষাকবচ চেয়ে সোমবারই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
ভোটের মুখে এই ঘটনাপ্রবাহ রাজ্যের রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলতে চলেছে। একদিকে যখন ২১ মে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচনের ঠিক আগে তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গীর খান আদালত থেকে অন্তর্বর্তীকালীন স্বস্তি পেয়ে স্বস্তিতে, ঠিক তখনই বাকি চার নেতার বিরুদ্ধে প্রশাসনের এই কড়া পদক্ষেপ তৃণমূল শিবিরের ওপর তীব্র মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করল বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। সরকার ও বিরোধী শিবিরের এই সংঘাত আগামী দিনে আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা স্পষ্ট।