ছাব্বিশের ভরাডুবির পর এবার বিধানসভার ধরনায় গরহাজির ৫০ বিধায়ক, তৃণমূলের অন্দরে ফাটল কি আরও চওড়া?

ছাব্বিশের ভরাডুবির পর এবার বিধানসভার ধরনায় গরহাজির ৫০ বিধায়ক, তৃণমূলের অন্দরে ফাটল কি আরও চওড়া?

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বড়সড় বিপর্যয়ের পর থেকেই শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ক্ষোভ ও অসন্তোষের পারদ চড়ছিল। কালীঘাটে শীর্ষ নেতৃত্বের দফায় দফায় বৈঠকের পরও দলের অন্দরের ফাটল যে জোড়া লাগেনি, বরং তা আরও চওড়া হয়েছে, বুধবার বিধানসভার চত্বরে তারই প্রমাণ মিলল। ভোট পরবর্তী হিংসা ও হকার উচ্ছেদের প্রতিবাদে আয়োজিত দলীয় ধরনা কর্মসূচিতে খোদ শাসকদলেরই ৫০ জন বিধায়ক অনুপস্থিত রইলেন। নির্বাচনের পর যেখানে জোরালো আন্দোলনের মাধ্যমে ঘুরে দাঁড়ানোর কথা, সেখানে প্রথম বড় কর্মসূচিতেই জনপ্রতিনিধিদের এই বিপুল অনুপস্থিতি দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে চরম অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছে।

বৈঠকের পরেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগের দিনই কালীঘাটে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে একটি জরুরি বৈঠক হয়। সেখানে একাধিক বিধায়ক ক্ষোভ উগরে দিয়ে স্পষ্ট জানান, শুধুমাত্র ঘরে বসে মিটিং করে দলকে বাঁচানো সম্ভব নয়, কর্মীদের চাঙ্গা করতে অবিলম্বে রাস্তায় নামা প্রয়োজন। এই চাপানউতোরের পরদিনই কুণাল ঘোষ, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের নেতৃত্বে দলের বিধায়করা বিধানসভায় ধরনায় বসেন। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, দলের একাংশ যখন বিধানসভার অলিন্দে ধরনায় শামিল, তখন প্রায় ৫০ জন বিধায়ক সেই কর্মসূচি পুরোপুরি এড়িয়ে গেছেন।

নেতৃত্বের ওপর অনাস্থা ও সম্ভাব্য প্রভাব

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিধানসভার এই ঘটনা আসলে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের রণকৌশলের প্রতি একাংশের অনাস্থারই বহিঃপ্রকাশ। ছাব্বিশের পরাজয়ের ধাক্কা কাটিয়ে যখন কর্মীদের চাঙ্গা করা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তখন জনপ্রতিনিধিদের এই উদাসীনতা ও অভ্যন্তরীণ সমন্বয়হীনতা তৃণমূলের ভবিষ্যৎ পথচলাকে আরও কঠিন করে তুলবে। দলের বর্তমান নীতি ও সিদ্ধান্তের সাথে অনেক বিধায়কই যে একমত হতে পারছেন না, তা তাদের হাবভাবেই স্পষ্ট। আন্দোলনের শুরুতেই এই মাত্রার ফাটল আগামী দিনে তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তিকে আরও দুর্বল করে দিতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *