ইরানের পরমাণু কর্মসূচি রুখতে চরম হুঁশিয়ারি, চলতি সপ্তাহেই কি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধের দামামা!

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি রুখতে চরম হুঁশিয়ারি, চলতি সপ্তাহেই কি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধের দামামা!

মধ্যপ্রাচ্যে আপেক্ষিক শান্তির বাতাবরণ কাটিয়ে আবারও কি পুরোদমে শুরু হতে চলেছে যুদ্ধ? মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যে এই আশঙ্কাই এখন তীব্র হয়ে উঠেছে। তেহরানকে কার্যত চরম সময়সীমা বেঁধে দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট সাফ জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের দেওয়া শর্ত না মানলে চলতি সপ্তাহের শেষেই ইরানে বড়সড় সামরিক অভিযান চালাতে প্রস্তুত আমেরিকা। আপাতদৃষ্টিতে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চললেও, ট্রাম্পের এই অনমনীয় অবস্থানের কারণে পরিস্থিতি যে কোনও মুহূর্তে মারাত্মক রূপ নিতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক কূটনীতিবিদরা।

মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অত্যন্ত কড়া ভাষায় তাঁর রণকৌশল স্পষ্ট করেন। তিনি জানান, ইরানের সঙ্গে আলোচনার পথ খোলা থাকলেও তা বড়জোর দুই থেকে তিন দিনের জন্য। এই সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে তেহরান যদি আমেরিকার শর্ত মেনে না নেয়, তবে শুক্রবার বা শনিবার, কিংবা আগামী সপ্তাহের শুরুতেই ইরানে বিমান বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হতে পারে। ট্রাম্পের স্পষ্ট বার্তা, ইরানকে কোনও অবস্থাতেই পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে বা নিজেদের কাছে রাখতে দেবে না আমেরিকা। এই হুমকির পর তেহরানের পক্ষ থেকেও পাল্টা হুঁশিয়ারি দেওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ আবার যুদ্ধের কালো মেঘে ঢেকে যাচ্ছে।

নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক ও যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ

এই সামরিক হুমকির নেপথ্যে রয়েছে এক সুদূরপ্রসারী যৌথ রণকৌশল। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, সম্প্রতি ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখানে মূল আলোচনার বিষয়বস্তুই ছিল ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা। ফলে ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারিকে কেবল মুখের কথা হিসেবে দেখছে না আন্তর্জাতিক মহল। খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্বীকার করেছেন, বর্তমানে দুই দেশের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি কার্যত ‘লাইফ সাপোর্টে’ বা অত্যন্ত ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে।

সংঘাতের মূল কারণ ও ৫ শর্তের টানাপোড়েন

চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইরান যে দাবিদাওয়া পেশ করেছিল, তাকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে ওয়াশিংটন। স্থায়ী চুক্তির লক্ষ্যে আমেরিকার পক্ষ থেকে ইরানকে যে ৫টি প্রধান শর্ত দেওয়া হয়েছে, তার ওপরই নির্ভর করছে যুদ্ধের ভবিষ্যৎ। শর্ত অনুযায়ী, ইরানকে কেবল একটি পরমাণু ঘাঁটি সচল রাখার অনুমতি দেওয়া হবে এবং যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি বাবদ আমেরিকার কাছে তেহরান যে ক্ষতিপূরণের দাবি করেছিল, তা সম্পূর্ণ নাকচ করা হয়েছে। উলটে ইরানকে প্রায় ৪০০ কিলোগ্রাম ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করতে বলা হয়েছে। এর বিনিময়ে আমেরিকা কেবল ইরানের বাজেয়াপ্ত করা বৈদেশিক সম্পদের ২৫ শতাংশ ফেরত দিতে রাজি হয়েছে।

আমেরিকার এই কঠোর শর্তাবলি ইরান মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানালে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হওয়া কেবল সময়ের অপেক্ষা। আর তেমনটা হলে বিশ্ব অর্থনীতি, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক পথ অবরুদ্ধ হয়ে পড়তে পারে, যার প্রভাব পড়বে গোটা বিশ্বের ওপর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *