গ্রেপ্তারির আশঙ্কায় সপুত্র আদালতে আত্মসমর্পণ করলেন সাংসদ মালা রায়

ভোট পরবর্তী হিংসা মামলায় গ্রেপ্তারির আশঙ্কায় শেষপর্যন্ত আলিপুর আদালতে আত্মসমর্পণ করলেন বিদায়ী সাংসদ মালা রায় ও তাঁর ছেলে নির্বাণ রায়। বুধবার আদালতে হাজির হয়ে তাঁরা জামিনের আবেদন জানান। আলিপুর আদালতের বিচারক তাঁদের ১ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে জামিন মঞ্জুর করেছেন। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
হুমকি ও অশান্তির অভিযোগ
তদন্তকারী সূত্রে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে ফলপ্রকাশের পর কলকাতার টালিগঞ্জ থানা এলাকায় ব্যাপক অশান্তি ছড়ানোর অভিযোগ ওঠে মালা রায় ও তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, ফলাফল স্পষ্ট হতেই বিজেপি কর্মীদের বাড়িতে গিয়ে অস্ত্র উঁচিয়ে হুমকি দেন এই তৃণমূল নেত্রী ও তাঁর পুত্র। ঘটনার প্রেক্ষিতে তাঁদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা রুজু করে নোটিস জারি করেছিল পুলিশ। এর পরেই গ্রেপ্তারির ভয়ে সপুত্রক আদালতে গিয়ে আইনি সুরক্ষার পথ বেছে নেন তিনি।
রাজনৈতিক পালাবদল ও আইন-শৃঙ্খলার প্রভাব
ছাব্বিশের নির্বাচনে বাংলায় এক বড়সড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের হাওয়া দেখা গেছে। নির্বাচনের ফলাফল সামনে আসতেই রাজ্য জুড়ে এক নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। অতীতের অভিজ্ঞতার কথা মাথায় রেখে এবার নির্বাচন কমিশন ভোট পরবর্তী হিংসা রুখতে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল। ফলে পূর্ববর্তী বছরগুলোর তুলনায় এবার ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
তবে রাজনৈতিক পালাবদলের এই সন্ধিক্ষণে আইন-শৃঙ্খলার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখাই প্রশাসনের কাছে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। মালা রায়ের মতো হেভিওয়েট নেত্রীর বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ ওঠায় এবং তাঁর আদালতে আত্মসমর্পণ করার ঘটনাটি রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলার কঠোর অবস্থানেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই ঘটনা আগামী দিনে অন্যান্য রাজনৈতিক কর্মীদের আচরণ এবং সামগ্রিক পরিস্থিতির ওপর গভীর প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।