পাঁচ দিনে দ্বিতীয়বার বাড়ল পেট্রল ও ডিজেলের দাম, কলকাতায় সেঞ্চুরি পার করে রেকর্ড ছুঁল জ্বালানি

পাঁচ দিনে দ্বিতীয়বার বাড়ল পেট্রল ও ডিজেলের দাম, কলকাতায় সেঞ্চুরি পার করে রেকর্ড ছুঁল জ্বালানি

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশবাসীকে জ্বালানি সাশ্রয়ের বার্তা দেওয়ার পরপরই দেশের বাজারে আবার ঊর্ধ্বমুখী পেট্রল ও ডিজেলের গ্রাফ। গত শুক্রবারের পর মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে মঙ্গলবার দ্বিতীয়বারের মতো বাড়ল জ্বালানির দাম। নতুন এই মূল্যবৃদ্ধির জেরে কলকাতার বাজারে পেট্রলের লিটারপিছু দাম ১০৯ টাকা ৭০ পয়সায় গিয়ে ঠেকেছে। একইভাবে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে ডিজেলের দামও। এক সপ্তাহের মধ্যে দু-দুটি বড় ধাক্কায় সাধারণ মানুষের পকেটে টান পড়তে চলেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

মঙ্গলবারের নতুন তালিকায় কলকাতায় প্রতি লিটার পেট্রলে ৯৬ পয়সা এবং ডিজেলে ৯৪ পয়সা বৃদ্ধি পেয়েছে। এর আগে গত শুক্রবার কলকাতায় লিটারপ্রতি পেট্রলের দাম ৩ টাকা ২৯ পয়সা বেড়ে হয়েছিল ১০৮ টাকা ৭৪ পয়সা, যা মঙ্গলবার থেকে বেড়ে হলো ১০৯ টাকা ৭০ পয়সা। অন্যদিকে, পাঁচ দিন আগে ডিজেলের দাম ৩ টাকা ১১ পয়সা বৃদ্ধির পর মঙ্গলবার তা আরও ৯৪ পয়সা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৬ টাকা ৮ পয়সায়। শুধু কলকাতাই নয়, দিল্লি, মুম্বই এবং চেন্নাইয়ের মতো দেশের অন্যান্য মেট্রো শহরগুলোতেও জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংকট ও আমদানির চাপ

জ্বালানির এই লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির পেছনে মূল কারণ হিসেবে উঠে আসছে আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান অস্থিরতার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেল বা ক্রুড অয়েলের সরবরাহ নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ভারত তার প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেলের সিংহভাগই বিদেশ থেকে আমদানি করে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে বা সরবরাহ বিঘ্নিত হলে দেশীয় বাজারে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে।

অর্থনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব ও সাশ্রয়ের আহ্বান

আমদানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় ভারতের বৈদেশিক মুদ্রাভান্ডারের ওপর চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনীতি ও বৈদেশিক মুদ্রা সুরক্ষিত রাখতে গত ১০ মে দেশবাসীর কাছে জ্বালানি সাশ্রয়ের বিশেষ আবেদন জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি ব্যক্তিগত গাড়ির বদলে মেট্রো রেলের মতো গণপরিবহন ব্যবহার, কারপুলিং বা গাড়ি ভাগাভাগি করা এবং সম্ভব হলে করোনা পরিস্থিতির মতো পুনরায় ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা বাড়ি থেকে কাজ করার ওপর জোর দেওয়ার আহ্বান জানান। তবে প্রধানমন্ত্রীর এই সতর্কবার্তার পরপরই পর পর দুই দফায় জ্বালানির দাম বাড়ায় স্বাভাবিকভাবেই নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের পরিবহন খরচ বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যার জেরে বাজারে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *