ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চিনের দাপট রুখতে ভারতের পাশে আমেরিকা, চার হাজার কোটির সামরিক প্যাকেজ অনুমোদন

ভারত ও আমেরিকার দ্বিপাক্ষিক ও সামরিক সম্পর্ক আরও একধাপ এগিয়ে গেল। ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চিনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব প্রতিহত করতে ভারতকে ৪২ কোটি ২৮ লক্ষ মার্কিন ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৪,১২৯ কোটি টাকার সামরিক সহায়তা প্যাকেজ বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে ওয়াশিংটন। আমেরিকার বিদেশ ও প্রতিরক্ষা দফতর যৌথভাবে এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছে। মূলত ভারতীয় সেনাবাহিনীর দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমরাস্ত্রের দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ ও কার্যক্ষমতা বজায় রাখতেই এই বিশাল অঙ্কের চুক্তি করা হয়েছে।
অ্যাপাচে ও হাউইৎজ়ারের শক্তি বাড়াবে মার্কিন প্রযুক্তি
এই সামরিক সহায়তা প্যাকেজের আওতায় রয়েছে ভারতীয় সেনার এএইচ-৬৪ই অ্যাপাচে হেলিকপ্টার এবং এম-৭৭৭ এ২ আল্ট্রা লাইট হাউইৎজ়ার কামানের দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা। আমেরিকা মূলত একটি সমন্বিত রক্ষণাবেক্ষণ প্যাকেজ বিক্রি করছে, যার মধ্যে রয়েছে অত্যাধুনিক আনুষঙ্গিক সামগ্রী, অতিরিক্ত যন্ত্রাংশ, মেরামত সুবিধা, ভারতীয় সেনাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ এবং উচ্চস্তরের প্রযুক্তিগত সহায়তা। চুক্তি অনুযায়ী, হাউইৎজ়ারের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকবে মার্কিন সংস্থা ‘বিএই সিস্টেম’। অন্যদিকে, অ্যাপাচে হেলিকপ্টারের প্রযুক্তিগত সহায়তার দায়িত্বে যৌথভাবে কাজ করবে বিশ্ববিখ্যাত দুই মার্কিন প্রতিরক্ষা সংস্থা ‘বোয়িং’ এবং ‘লকহিড মার্টিন’।
আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও চিনের প্রভাব ঠেকানোর কৌশল
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপের নেপথ্যে রয়েছে ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই অনুমোদন আমেরিকা ও ভারতের কৌশলগত সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে, যা দক্ষিণ এশিয়া এবং ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, শান্তি এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতি বজায় রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। গত এক দশকে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে যৌথ সামরিক মহড়া এবং প্রযুক্তি বিনিময়ের মাধ্যমে যে নিবিড় অক্ষ গড়ে উঠেছে, এই চুক্তি তাকে আরও মজবুত করল। বিশেষ করে, এই অঞ্চলে চিনের একাধিপত্য রুখতে আমেরিকা, ভারত, জাপান ও অস্ট্রেলিয়াকে নিয়ে গঠিত ‘কোয়াড’ জোটের যে লক্ষ্য, এই সামরিক সহযোগিতা তারই একটি বড় অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।