মায়ের অসুস্থতাও মিলিয়ে দিতে পারল না স্বস্তি, সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণের পরেই খারিজ উমর খালিদের জামিন!

মায়ের অসুস্থতাও মিলিয়ে দিতে পারল না স্বস্তি, সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণের পরেই খারিজ উমর খালিদের জামিন!

দিল্লি হিংসা মামলায় দীর্ঘ চার বছর ধরে কারাবন্দি জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএনইউ) প্রাক্তন ছাত্রনেতা উমর খালিদের অন্তর্বর্তী জামিনের আবেদন আবারও খারিজ করে দিল দিল্লির একটি আদালত। অসুস্থ মায়ের দেখভাল এবং কাকার মৃত্যু-পরবর্তী আচার-অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার মানবিক কারণ দর্শিয়ে এই জামিনের আর্জি জানিয়েছিলেন উমর। কিন্তু নিম্ন আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, এই ধরনের কারণ দেখিয়ে অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর করা সম্ভব নয়। সাম্প্রতিক সময়ে সুপ্রিম কোর্টের একটি ইতিবাচক পর্যবেক্ষণের পর উমরের মুক্তির বিষয়ে যে আশার আলো তৈরি হয়েছিল, নিম্ন আদালতের এই রায়ে তা বড়সড় ধাক্কা খেল।

শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ ও আইনি সংঘাত

এই রায়টি এমন এক সময়ে এল যার ঠিক আগের দিনই সুপ্রিম কোর্ট উমর খালিদ ও শারজিল ইমামের জামিন সংক্রান্ত পূর্ববর্তী রায়ের কড়া সমালোচনা করেছিল। বিচারপতি বিভি নাগরত্ন এবং বিচারপতি উজ্জ্বল ভুয়ানের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট মনে করিয়ে দিয়েছিল যে, কড়া আইনি ধারা বা ইউএপিএ (বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন) মামলার ক্ষেত্রেও ‘জামিন পাওয়াটাই নিয়ম, জেল ব্যতিক্রম’। শীর্ষ আদালত উমরদের প্রসঙ্গে ২০২১ সালের একটি ঐতিহাসিক মামলার রায়কে তুলে ধরে জানায়, এই ক্ষেত্রে যথাযথ আইনি নিয়ম পালন করা হয়নি। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের এই তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণের পরদিনই নিম্ন আদালতে উমরের আবেদন খারিজ হওয়া আইনি মহলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

দীর্ঘ কারাবাস ও সম্ভাব্য প্রভাব

২০২০ সালের দিল্লি গোষ্ঠীহিংসার মামলায় অভিযুক্ত হয়ে দীর্ঘ চার বছর ধরে জেল খাটছেন উমর খালিদ এবং শারজিল ইমাম। চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি ইউএপিএ মামলায় তাঁদের জামিনের আবেদন শীর্ষ আদালতে খারিজ হয়ে গেলেও, সাম্প্রতিক শুনানিতে আদালতের সুর নরম হতে দেখা গিয়েছিল। বারবার জামিন প্রত্যাখ্যানের এই ঘটনাটি ভারতের বিচার ব্যবস্থায় কঠোর সন্ত্রাসবিরোধী আইনের (UAPA) প্রয়োগ এবং বিচারাধীন বন্দিদের দীর্ঘ কারাবাসের বিষয়টি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে। মানবিক কারণে করা আবেদনও খারিজ হয়ে যাওয়ায় উমর খালিদের আইনি লড়াই আরও দীর্ঘায়িত ও জটিল রূপ নিল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *