বার বার কেন বিকল ড্রিমলাইনারের জ্বালানি সুইচ, রহস্যভেদে এবার আমেরিকায় বোয়িং দফতরে যাচ্ছে ভারতের ডিজিসিএ

বার বার কেন বিকল ড্রিমলাইনারের জ্বালানি সুইচ, রহস্যভেদে এবার আমেরিকায় বোয়িং দফতরে যাচ্ছে ভারতের ডিজিসিএ

গুজরাতের আমদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার দুর্ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার নড়েচড়ে বসল ভারতের বিমান চলাচল নিয়ামক সংস্থা ডিজিসিএ (ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল অ্যাভিয়েশন)। বিমানের জ্বালানি (ফুয়েল) সুইচে বারবার দেখা দেওয়া প্রযুক্তিগত ত্রুটির রহস্য উদঘাটনে আমেরিকার সিয়াটলে বোয়িং-এর মূল কারখানায় বিশেষ পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। গত বছর আমদাবাদে ২৬০ জনের প্রাণহানি এবং লন্ডনে উড়ানের আগে একই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হওয়ার পর এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

ককপিটের কথোপকথনে চাঞ্চল্যকর তথ্য

আমদাবাদ দুর্ঘটনার পর এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (এএআইবি) যে ১৫ পাতার তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করেছে, তাতে ককপিটের শেষ মুহূর্তের কথোপকথন উঠে এসেছে। উড্ডয়নের পরপরই এক পাইলটকে প্রশ্ন করতে শোনা যায়, “কেন তুমি বন্ধ করে দিলে?” জবাবে অন্যজন বলেন, “আমি কিছু বন্ধ করিনি।” দুর্ঘটনার মুহূর্তে বিমানে থাকা অভিজ্ঞ ক্যাপ্টেন ও কো-পাইলট উভয়েই মারা যান। বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো সুস্থ ও স্বাভাবিক চালক উড়ন্ত অবস্থায় ইচ্ছাকৃতভাবে বিমানের জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করবেন না। ফলে এই সুইচের কার্যকারিতা এবং নকশা নিয়েই এখন বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ ও জটিলতা

বিমান বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, বোয়িং ড্রিমলাইনারের জ্বালানি সুইচটির অবস্থান ‘রান’ থেকে ‘কাট অফ’ করতে হলে একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতি মানতে হয়, যা দুর্ঘটনাবশত বা ভুলবশত হওয়া কঠিন। তবে ককপিটের বিন্যাস অনুযায়ী, এই সুইচের ঠিক ওপরেই থাকে গতি নিয়ন্ত্রক ‘থ্রাস্ট লিভার’। তদন্তকারীদের অনুমান, বিমানটি মাটি ছাড়ার পর চাকার গিয়ার তোলার প্রক্রিয়া (গিয়ার আপ) চলাকালীন হয়তো অসাবধানতাবশত জ্বালানি সুইচটি ‘কাট অফ’ হয়ে যায়।

পরবর্তীতে পাইলটরা পরিস্থিতি বেগতিক দেখে দ্রুত দুটি সুইচই আবার সচল করার আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন। এর ফলে একটি ইঞ্জিন সাময়িকভাবে সচল হলেও অন্য ইঞ্জিনটি পুরোপুরি স্তব্ধ হয়ে যায়। যার জেরে বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।

প্রভাব ও পরবর্তী পদক্ষেপ

এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে এবং আন্তর্জাতিক বিমান সুরক্ষার স্বার্থে ডিজিসিএ-র এই তদন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বোয়িং-এর কারখানায় এই বিশেষ পরীক্ষার মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হবে যে, এটি পাইলটদের পরিচালনাগত ভুল নাকি বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনারের অভ্যন্তরীণ কোনো যান্ত্রিক বা নকশাগত ত্রুটি। এই তদন্তের ফলাফলের ওপর বিশ্বজুড়ে চলাচলকারী বোয়িং ড্রিমলাইনার বিমানগুলোর উড়ান নিরাপত্তা এবং বোয়িং কো ম্পা নির বাণিজ্যিক ভবিষ্যৎ বহুলাংশে নির্ভর করছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *